তথ্য মতে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অটিস্টিক শিশুর ইন্দ্রিয়গুলোর অটিজম কোনো মানসিক রোগ নয়, মস্তিষ্কের একটি বিকাশগত সমস্যা। সাধারণত একটা শিশুর তিন বছরের মধ্যেই লক্ষণ গঠনমূলক, গুণ অক্ষুণ্ন থাকলেও কার্যক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে, যার কারণে বাকি মানসিক ও সামাজিক গুণগুলো প্রকাশিত হয় না। যেমন একজন অটিস্টিক শিশুর শ্রবণযন্ত্র স্বাভাবিক থাকলেও শিশু শ্রবণ সংবেদনের সঠিক ব্যাখ্যা করতে পারে না। এখনো অটিজম নিয়ে আমাদের দেশে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ অনুযায়ী (২০১৩-২০১৬) দেশে অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা ৪১ হাজার ৩২৯। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে অটিস্টিক শিশুর হার ৩ শতাংশ। আর ঢাকার বাইরে দশমিক ৭ শতাংশ। অটিজম চিকিত্সায় ওষুধের কোনো ভূমিকা নেই। অটিজম সমস্যার নিরাময় করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। যত দ্রুত Early Intervention দেওয়া যায় ততই ভালো। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর উন্নতি সম্ভব এবং এর মধ্যে অনেকেই সাধারণ স্কুলে যাওয়ার মতো যোগ্য হয়ে ওঠে। অটিজম মানেই অক্ষমতা নয়। তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। অটিস্টিক শিশুরা স্কুল-কলেজ, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সফলতা অর্জন করার মতো যোগ্যতা রাখে। কিছু অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণে অসাধারণ সামর্থ্যের প্রকাশ পাওয়া যায়। যেমন লুইস ক্যারোল ছিলেন আমেরিকার বিখ্যাত কবি, চিত্রকর ও গণিতবিদ। এছাড়া বিখ্যাত সংগীতশিল্পী লেডি হাক, ডারিল হান্না, কার্টুন ছবির আবিষ্কারক সাতসি তাহেরিসহ বিখ্যাত ব্যক্তি অটিস্টিক ছিলেন। ধারণা করা হয়, আইজাক নিউটন, আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি প্রমুখ ব্যক্তির মধ্যেও কিছু অটিস্টিক লক্ষণ ছিল।
অটিস্টিক শিশুদের সুষ্ঠু-স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠার জন্য দরকার যথাযথ পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা এবং সেই সঙ্গে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষিতদের তত্ত্বাবধানে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া। বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং মানসিক ও শারীরিক উভয় ধরনের অটিস্টিক শিশুদের উত্সাহ- উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
