মধুপুর বনাঞ্চলে সরকারি বরাদ্দের খাবার না পেয়ে লোকালয়ে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে অভুক্ত বানর-হনুমান। জানা যায়, মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা, জাতীয় সদর উদ্যান, চাড়ালজানি ও রসুলপুর রেঞ্জে গজারী, আজুলি, কাইকা, সাইধা, কুম্বি, জয়না, ভুতুম, সিন্ধুরী, জিগা ও সোনালু গাছ উজাড় হওয়ায় বানর-হনুমানের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
মধুপুর উপজেলার জলছত্র গ্রামের আনারস চাষি উমর শরীফ জানান, খাদ্যাভাবে বন থেকে প্রতিদিন দল বেঁধে বেরিয়ে আসে বানর-হনুমান আশপাশের কলা, আনারস ও সবজি বাগান তছনছ করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহস্তের নারিকেল বা ডাব, সজিনা, আম, আতাফল, বরই সাবাড় করে। ফল-ফসল রক্ষার জন্য অনেকেই বিষ টোপ ব্যবহার করে। গাছাবাড়ী গ্রামের স্কুল শিক্ষক সন্তোষ কুমার জানান, বন ভেদ করে চলে যাওয়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক পাড়ি দিয়ে আনারস ও কলা বাগানে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই যন্ত্রদানবের নিচে পিষ্ট হচ্ছে এরা।
মাগন্তীনগরের কলা চাষি আবুল হোসেন জানান, জানুয়ারি-এপ্রিল বনে কচিপাতা ও লতা মেলে না। তখন অভুক্ত বানর-হনুমান কলা ও আনারস বাগানে হামলা চালায়। বাত্তি-অবাত্তি সব ফল খেয়ে সাবাড় করে। বেড়িবাইদ গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার জুলহাস হোসেন জানান, বনাঞ্চলের অভুক্ত বানর-হনুমানের জন্য সরকার প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কিন্তু বানর-হনুমান পরিমাণমতো খাবার পায় না। এজন্য অবুঝ প্রাণীরা বন ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকালয়ে যায়। সন্তোষপুর রাবার বাগানের কর্মচারী মাজহারুল মিয়া জানান, বানর-হনুমান দেখার জন্য প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শক আসেন। এরা কলা, বিস্কুট, পাউরুটি নিয়ে আসেন। কিন্তু করোনার কারণে লোকজন না আসায় বণ্যপ্রাণীরা বাড়তি খাবার পাচ্ছে না। লহুরিয়া বিট অফিসার আব্দুল জলিল তালুকদার জানান, টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতায় জাতীয় সদর উদ্যান, দোখলা ও চাড়ালজানি রেঞ্জে প্রায় ১০ হাজার বানর-হনুমান রয়েছে। এদেরকে টোকেন খাবার হিসেবে বাদাম ও কলা দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় চাহিদামতো খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে ময়মনসিংহ বন বিভাগের রসুলপুর রেঞ্জের সন্তোষপর বিট অফিসার আশরাফুল আলম জানান, তার বিটে সাড়ে ৩০০ বানর-হনুমান রয়েছে। এদেরকে সাধ্যমতো খাবার দেওয়া হয়।
দর্শকরা বিস্কুট, চিপস, পাউরটিসহ যেসব খাবার বানর-হনুমানকে দিয়ে থাকেন তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এসব খাবারে বণ্যপ্রাণীর প্রজনন সমস্যা হয়। মধুপুর বনাঞ্চলের বণ্যপ্রাণীর খাবার সরবরাহকারি সরকারি ঠিকাদার উত্তম কুমার সরকার জানান, টাঙ্গাইল অংশে বানর-হনুমানের খাবার সরবরাহে প্রতি মাসে ৯ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং লহুরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্রের জন্য ৩২ হাজার ৯৪০ টাকা মাসে বরাদ্দ। রেঞ্জ কর্মকর্তারা এ টাকায় কেনা খাবার পেয়ে থাকেন। মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারী বনসংরক্ষক জামাল হোসেন তালুকদার জানান, বানর-হনুমানকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। বরাদ্দের অপ্রতুলতায় তা সন্তোষজনক নয়।
