করোনার প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যা হাসপাতাল প্রায় ফাঁকা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৪

করোনা প্রাদুর্ভাবে গত কয়েক দিনে চিরচেনা নীলফামারী হাসপাতালের দৃশ্য একেবারে বদলে গেছে। রোগীদের ভিড় নেই, ডাক্তার-নার্সদেরও নেই ব্যস্ততা। কিছুদিন আগে যেখানে হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যার বাইরেও বারান্দা মেঝেতে চিকিত্সা নিতে হতো রোগীদের। সেখানে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অনেক বেডই এখন ফাঁকা পড়ে আছে। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আফরোজা খাতুন বলেন, রোগীদের চাপ আগে সামলানো যেত না। একজনকে যদি ইনজেকশন দিতে যাই আরেকদিকে তিন চার জন ডাকছেন। সে রকম পরিবেশ নেই। তিনি বলেন, হাসপাতালের ওষুধ নিয়ে বাড়িতে থেকে সুস্থ হওয়ার মতো রোগীরা এখন এখানে থাকছেন না। এদিকে হাসপাতালে করোনা সন্দেহে আগত রোগীদের চিকিত্সার জন্য আলাদা একটি ইউনিটে কাজ করছেন একজন চিকিত্সক, একজন নার্স এবং একজন ওয়ার্ডবয়। এই ইউনিটের দায়িত্বরতরাই আপাতত ব্যবহার করছেন পিপিই।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মেজবাহুল হাসান চৌধুরী জানান, করোনা প্রভাবের কারণে অনেকটা প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের রোগীদের সংখ্যার তালিকায়। নিতান্তই যাদের এখানে থেকে চিকিত্সা নেওয়া প্রয়োজন তারা থাকছেন। এছাড়া টেলিমেডিসিনের সেবার কারণে অনেকে বাসায় থেকেই চিকিত্সা সেবা নিচ্ছেন। তিনি জানান, এই হাসপাতালের জন্য ১ হাজার পিপিইর চাহিদা দেওয়া হয়েছিল পেয়েছি মাত্র ১০০টি। এর মধ্যে ৭০টি ব্যবহার হয়েছে। আপাতত যারা করোনা সন্দেহের চিকিত্সা করবেন তারাই এই পিপিই ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন।  সিভিল সার্জন রনজিত্ কুমার বর্মণ জানান, জেলায় ১০০৭টি পিপিই মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ২৭১টি বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে নীলফামারীতে কমতে শুরু করেছে বিদেশফেরত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা। বর্তমান হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৬২ জন। ইতিমধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পূর্ণ হয়েছে ১৭৬ জনের। তারা সকলে সুস্থ আছেন।