ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জেছমিন আক্তার (৪৩) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। জেছমিনের স্বামী মো. স্বাধীন মিয়া ও ভাসুর বাবুল পলাতক বলে জানা গেছে।
থানা পুলিশ, এলাকাবাসী ও গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. স্বাধীন মিয়া ও জেছমিনের মধ্যে পারিবারিক কলহ-বিরোধ ছিল। এর জের ধরে তিন মাস আগে জেছমিন তার পিতার বাড়িতে চলে যান। পারিবারিকভাবে মীমাংসার পর জেছমিন আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু গত সোমবার রাতে পারিবারিক ফের কলহের জের ধরে মারামারি হলে জেছমিন গুরুতর আহত হন। মঙ্গলবার ভোরবেলায় জেছমিনের বড়ো ছেলে নবী (২১), নবীর চাচাত ভাই সুজন (২৫) ও চাচি রেনু আরা (৪৩) জেছমিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় চিকিত্সা সেবা দেওয়ার জন্য। জেছমিনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে আবার বাড়ি নিয়ে আসা হয়। কিন্তু জেছমিনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলে নবী বুধবার সকালে বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় তার মাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জেছমিনের মৃত্যু হয়।
সুরতহাল রিপোর্টকারী গফরগাঁও থানার এসআই খায়রুল ইসলাম জানায়, জেছমিনের হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। গলায়ও সামান্য দাগ আছে।
জেছমিনের ভাই রুবেল ফকির (৪১) বলেন, ‘আমার বোনকে তার স্বামী স্বাধীন মিয়া ও বাবুল মেম্বার প্রায়ই মারধর করত। সোমবার রাতে আমার বোনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্বাধীন মিয়া। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
গফরগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মির্জা মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘জেছমিনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জেছমিনের পরিবার মামলা করবেন বলে জানিয়েছে। মামলা দায়েরের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
