করোনা প্রতিরোধে পুলিশের ঘরে থাকার নির্দেশনা অনেকেই মানছে না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর অলিগলিতে মানুষের পদচারণা অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রীতিমতো ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ নগরবাসীকে সচেতন করতে দফায় দফায় মাইকিং করছে। এমনও দেখা যাচ্ছে, পুলিশ গাড়িতে করে সচেতনতার মাইকিং করছে আর রাস্তার চায়ের দোকানে অন্তত ১০-১৫ জন একত্রে আড্ডা দিচ্ছে। পুলিশের টহল টিম রাস্তায় আড্ডা দেওয়া বা ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সচেতন করছে।
গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি, মার্কেট বন্ধ, গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণার পর চার দিন পর্যন্ত নগরবাসীর বেশির ভাগই ছিল অনেকটা গৃহবন্দি। সোমবার থেকে ধীরে ধীরে পাড়া-মহল্লায় ভিড় বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার অনেক এলাকার অলিগলিতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
সূত্রাপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, কলতাবাজার, ডালপট্টি, ইস্টবেঙ্গল মার্কেটের সামনে, নাসির উদ্দিন সরদার লেন, বানিয়ানগর এলাকায় পুলিশ গত সাত দিন ধরে মাইকিং করার পরও বহু মানুষ অপ্রয়োজনীয় কাজে বাড়ির বাইরে ঘোরাঘুরি করে। প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পর তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। পরে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অযথা ঘোরাঘুরি করার জন্য দুই ব্যক্তিকে জরিমানাও করা হয়।
পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, পল্লবীতে মিল্লাত ক্যাম্প, রহমত ক্যাম্প, কুর্মিটোলা ক্যাম্পসহ বিহারিদের ৪৪টি ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পে এ পর্যন্ত ৮৪ বার মাইকিং করা হয়েছে। টহল টিম পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনছে না। বিকালে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। চায়ের দোকান বন্ধ করার নির্দেশ থাকলেও মানছে না কেউ।
উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় সবচেয়ে বেশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের বসবাস। এ দুই থানা এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময়ে সব দোকান খোলা থাকছে। পুলিশ গাড়িতে করে মাইকিং করছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এ ব্যাপারে পুলিশের উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, দুটি অটোরিকশায় করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। পুলিশের মোবাইল টিম গাড়িতে করে মাইকিং করছে। তার পরও ভিড় কমছে না। বরং সন্ধ্যার পর তা আরো বেড়ে যায়।
এদিকে অন্যদিনের তুলনায় প্রধান সড়কগুলোতে গতকাল অপেক্ষাকৃত বেশি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও রিকশা চলাচল করেছে। এসব ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, নগরবাসীর স্বার্থেই তাদের ঘরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে।
