করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে বলা হলেও বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে ভেন্ডিংসহ বিভিন্ন রিচার্জ কেন্দ্রে ভিড় করছেন গ্রাহকরা। এর ফলে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে বিদ্যুত্ বিতরণকারী সংস্থা-কোম্পানিগুলো বলছে, মিটার রিচার্জ করার জন্য গ্রাহকদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। নির্ধারিত টেলিফোন নম্বরে ফোনকল করলে বিদু্যুত্কর্মীরা বাড়িতে গিয়েই মিটার রিচার্জ করে দিয়ে আসবেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করেও রিচার্জ করা যায়। কিন্তু অনেক গ্রাহকের সে সুবিধা নেই। আবার অনেকের সুবিধা থাকলেও ব্যবহার জানেন না কিংবা আগ্রহী নয়। তাই রিচার্জ কেন্দ্রে উপস্থিত হচ্ছেন।
দেশে বর্তমানে বিদ্যুত্ এবং গ্যাসের পোস্টপেইড ও প্রিপেইড-দুই শ্রেণির গ্রাহক রয়েছে। আগামী মে মাস পর্যন্ত গ্যাসের বিল এবং এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল দেরিতে পরিশোধ করা হলেও বিলম্ব মাশুল দিতে হবে না পোস্টপেইড গ্রাহকদের। আর আবাসিক গ্যাসের প্রিপেইড গ্রাহকদেরকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আগাম রিচার্জ দিচ্ছে কোম্পানিগুলো। এর মাধ্যমে বিদ্যুত্-গ্যাসের বিল পরিশোধে গ্রাহকদের ব্যাংকে যাওয়া বন্ধ করা গেলেও বিদ্যুতের রিচার্জের জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রিচার্জকেন্দ্রগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় তৈরি হচ্ছে।
ঢাকার দক্ষিণ অংশ এবং নারায়ণগঞ্জের কিছু অংশে বিদ্যুত্ সরবরাহ করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকার উত্তর অংশ এবং গাজীপুরের কিছু অংশে গ্যাস বিতরণ করে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। গত দুই দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, গুলশান, উত্তরা, মগবাজার, আজিমপুর এবং কামরাঙ্গীরচরের বিভিন্ন রিচার্জকেন্দ্রে স্থানীয়দের ভিড় করতে দেখা গেছে।
২ কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড়ো বিদ্যুত্ বিতরণকারী সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। বর্তমানে এর আওতায় প্রায় পৌনে ১১ লাখ প্রিপেইড গ্রাহক রয়েছে। ইত্তেফাকের কয়েকটি জেলার প্রতিনিধিরা জানান, প্রিপেইড মিটার রিচার্জের জন্য গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিগুলোতে ভিড় করছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে বরং এখন বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে রিচার্জ করা অনিশ্চিত হয়ে যাবে এমন ভীতি থেকে গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে বলে মনে করেন কয়েকটি সমিতির জেনারেল ম্যানেজাররা।
গ্যাস কোম্পানিগুলোর মতো বিদ্যুত্ বিতরণকারী কোম্পানি-সংস্থাগুলো কেন গ্রাহকদের আগাম রিচার্জ দিচ্ছে না এমন প্রশ্ন করা হলে দুইটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের মতো বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারগুলো স্মার্ট নয়। বর্তমান পদ্ধতিতে-ব্যবস্থায় বিদ্যুতের আগাম রিচার্জ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই গ্রাহকদের কাছে গিয়ে রিচার্জ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুত্ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারগুলো স্মার্ট হওয়া উচিত। বর্তমানে একাধারে সনাতনী এবং স্মার্ট দুই ধরনের প্রিপেইড মিটারই স্থাপন করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থায় সনাতনী মিটারগুলো আগাম রিচার্জ দেওয়ার মতো সেবার সুযোগ দেয় না। এখন সনাতনী মিটার বসিয়ে পরে আবার স্মার্ট মিটার স্থাপন অর্থ ও সময়ের অপচয়।
