একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র ৪৮ ঘন্টা। নির্বাচন কমিশনের তফসিল মোতাবেক আজ শুক্রবার সকাল আটটায় শেষ হয়েছে প্রচারণা কার্যক্রম। নির্বাচনের প্রচারণায় হামলা, মামলা, গ্রেফতারসহ বৈরি পরিবেশ মোকাবিলা করতে হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের। অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই প্রচারণা শেষ করছে বিএনপি-জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-২০ দল। গণসংযোগকালে ধানের শীষের অন্তত: ৩২ জন প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ১৬ জন প্রার্থী আইনগত জটিলতায় পড়ে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেছেন। ১৬ জন প্রার্থী জেলে। নির্বাচনে আছেন ২৮৪ জন ধানের শীষের প্রার্থী। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত নির্বাচনে লড়াই করে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট।নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না তারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দেশের ভোটারদেরকে সাহস নিয়ে সকাল সকাল ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন,সাহস নিয়ে সবাই মাঠে নামুন। ৩০ তারিখ ভোটের বিপ্লব করুন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তি, রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পেতে ধানের শীষে ভোট দিন। তিনি সব ভয়-হুমকি উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোট প্রদান এবং ফলাফল পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহবান জানান।মানুষ অবাধে ভোট প্রয়োগের সুযোগ পেলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ৩০ ডিসেম্বর নীরব ভোট বিপ্লব হবে।
এদিকে প্রচারণার শেষদিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সমাবেশের কর্মসূচি ছিল ঐক্যফ্রন্টের। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় সে সমাবেশ করতে পারেনি।
বিএনপির নির্বাচনী মনিটরিং সেল ও কেন্দ্রীয় দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৯ হাজার ২০২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে মোট ৮০৬টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সারাদেশের ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৭১৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ১২ হাজার ৫৮৮ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক আহত হন। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৮ জন মারা গেছেন।
এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারাণা- তারাই ভোটের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবেন। ইতোমধ্যে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতারা পৃথক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তারা তরুণদের জেগে উঠতে এবং পছন্দের প্রার্থীকে সকাল সকাল ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য বলেন, নির্বাচনের শেষ সময়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি সূত্র জানায়, ভোটের দিন ক্ষমতাসীন দলের ‘একতরফা মাঠ দখলে নেয়ার প্রচেষ্টা’ রুখে দিতে পারলে, বিফল হতে হবে না। এ কারণে গ্রেফতার এড়িয়ে ভোটের দিন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক নেতা-কর্মী রাখার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন তারা। তবে হামলা-মামলা-গ্রেফতারের কারণে বর্তমান আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে প্রতিটি কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট দেয়াকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং মনে করছে বিএনপি। ভোট রক্ষায় ‘কেন্দ্র পাহারা কমিটি’ গঠনের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, ভোটের ফলাফল গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো মূল্যে কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে এবং কোনো কেন্দ্র এজেন্ট শূন্য রাখা যাবে না।
গতকাল দলের পক্ষ থেকে সারাদেশে বার্তা দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এলাকার মুরব্বি, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকদের নিয়ে পাহারা গণ কমিটির সবাই ভোট শেষ হওয়ার আগে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখবেন। কেউ কেন্দ্র ছাড়বেন না। সকালে কেন্দ্রে ঢুকে ভোটের বাক্স পরীক্ষা করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়।
