সাংবাদিক আরিফুলকে নির্যাতনের মামলা থানায় নথিভুক্ত

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২২:২০

কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়ার চেষ্টা ও পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিবস্ত্র করে নির্যাতন-ভিডিওধারণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনায় সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার গ্রহণ করেছে থানা। আরিফুল ইসলাম থানায় এজাহারটি জমা দেওয়ার ১২ দিন পর হাইকোর্টের নির্দেশে গত মঙ্গলবার রাতে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়। এর আগে গত ১৯ মার্চ অভিযোগটি থানা গ্রহণ করলেও নথিভুক্ত করেনি।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের গত ১৯ মার্চ দাখিল করা অভিযোগটি অপহরণ ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের মামলার এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেন ওসি মাহফুজার রহমান।

মামলার আসামিরা হলেন—কুড়িগ্রাম জেলা থেকে প্রত্যাহার হওয়া সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নাজিম উদ্দীন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা, সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) এস এম রাহাতুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা ৩৫-৪০ জন সরকারি কর্মচারী।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান জানান, হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার পর এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, আদালতের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। আমি আদালতে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছিলাম। তারই অংশ হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হলো। এখন অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেন সমাজে এটি একটি নজির হয়ে থাকে।