হাজার হাজার লোকের সমাগম বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৯

মাদারীপুরে রাজৈরে থামছে না দৈনিক বাজার ও সাপ্তাহিক হাট। সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল বিকাল নিয়মিত বসছে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হাট-বাজার। এতে হাজার হাজার লোক সমাগম ঘটায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই যাচ্ছে। শহরতলি ও গ্রামগঞ্জের কেউ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করছে না। লম্বা ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামে আসা লোকজন দল বেধে যাতায়াতসহ চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। এ সব অসচেতন লোকজনকে সচেতন করতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অন্য সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও তা মানছে না কেউ। ঢাকা ফেরতরা বেশি বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছে। যাতায়াত করছে হাট-বাজারসহ আত্মীয় বাড়িতে। নানা বয়সের মানুষ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে অবাধে হাট-বাজার করছে। সড়ক-মহাসড়কে লোক গাদাগাদি করে চলাচল করছে ইজিবাইক, ভ্যান রিকসাসহ ছোটো ছোটো যানবাহন। ঢাকা ফেরতরা নানাভাবে গ্রামবাসীর সংস্পর্শে আসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এ দৃশ্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে টেকেরহাট বন্দরসহ রাজৈর উপজেলার প্রায় সর্বত্র। আজ বুধবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক টেকেরহাট বন্দরের কাঁচাবাজার ও মাছ বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উদ্দেশে সচেতনামূলক মাইকিং করেন। কিন্তু তা কেউ কর্ণপাত করেননি। মাইকিং করতে করতে এক সময় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

রাজৈর উপজেলার রাজৈর, টেকেরহাট বন্দর, শংকরদী উত্তরপাড়, দক্ষিণপাড়, আমগ্রাম ও কদমবাড়ীহাটসহ গ্রামের হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্বে মোটেই তোয়াক্কা করছে না কেউ। দৈনিক বাজার ও সাপ্তাহিক হাটের দিন থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল রাজৈর ও টেকেরহাট বাজারে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে। গোপনে বা প্রকাশ্যে চলছে চায়ের দোকানে আড্ডা, খাবারের হোটেল ও প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় প্রভাবশালী দোকানগুলোর চিত্র একই। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি জেনেও অনেকে বিরূপ মন্তব্য করে বসে।  

রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে বুধবার ও শনিবার সাপ্তাহিক হাট বসে। টেকেরহাট বন্দরের এ হাট কুমার নদ দ্বারা বিভক্ত উত্তর ও দক্ষিণপাড়ে সমাগম ঘটে হাজার হাজার মানুষের। উত্তরপাড়ের হাটটি মাদারীপুরের রাজৈর ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সীমান্ত রেখায় অবস্থান হওয়ায় দুই জেলার নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ দুই অংশে সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর ও সড়কের পশ্চিমপাশে নীচে বিভিন্ন শস্যের বা ধুলাট মালের হাট বসে। এ হাটে মাদারীপুর সদর রাজৈর, শিবচর, গোপালগঞ্জ সদর, কোটালীপাড়ার, মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ভোর রাত ৪টা থেকে শত শত কৃষক ও ব্যবসায়ী শস্য ক্রয় ও বিক্রয় করতে আসে। বুধবার সকালে টেকেরহাট উত্তরপাড়ে রবি শস্যের হাটে শতশত ক্রেতা-বিক্রেতা ও রবিশস্য বোঝাই যানবাহন রীতিমতো ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি করে। এই যানজটের কারণে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাক অন্যান্য ছোটো ছোটো যান কয়েক ঘণ্টাব্যাপী  আটকে থাকে। এ ধরনের হাট-বাজারে হাজার হাজার লোক সমাগম সামাজিক দূরুত্ব না মানায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টেকেরহাট কাঁচাবাজারে মহিলাদের উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ার আইন মানছে না কেউ। টেকেরহাট বন্দরের সড়ক ও জনপথ অফিসের সামনে প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটা থেকে সকাল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত মেলে শ্রমবাজার। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে এখানে শত শত মহিলা ও পুরুষ শ্রমিক ভিড় জমায়। এরা আবার  শ্রম বিক্রির জন্য বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এ শ্রমের বাজার থেকেও স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ এরা কোনো নিয়ম-কানুন মানছে না।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা, সকল ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালালেও জনগণ সেটা সঠিকভাবে মেনে চলছে না। ভাসমান কাঁচমাল ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ জানান, দিনে কাঁচামাল বিক্রি করে যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়ে আমার সংসার চলে। সরকার আমাদের সাময়িক সাহায্য দিলে ভালো হতো।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেকান্দার আলী শেখ জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ভূমিকা ছাড়া এ মানুষের ভীড় কমানো সম্ভব নয় ।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে টেকেরহাট বন্দরে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মানুষজনকে সচেতন করতে আসা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক  বলেন, হতাশা নয়—বাজারে আগত মানুষজনকে ঘরে ফেরাবার জন্য আমরা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।