চট্টগ্রামে ঘরে রাখা যাচ্ছে না মানুষকে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪০

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম নগরীর অনেক এলাকায় এ নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনে অনেককেই বাসার বাইরে আসতে হচ্ছে। তবে বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করা লোকজনের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিংবা পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে নানা বয়সের লোকজন আড্ডাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এসব আড্ডাবাজির মধ্য দিয়ে ডালপালা মেলছে গুজব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড়ো রাস্তায় টহল দিলেও অলিগলিতে প্রবেশ না করায় এসব আড্ডাবাজি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

জরুরি প্রয়োজনে শুধু কাঁচাবাজার, ওষুধ ও মুদি দোকান খোলা থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো এলাকায় পুরোদমে দোকানপাট খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। সেনাবাহিনী, র্যাব বা পুলিশের গাড়ি দেখলে তড়িঘড়ি করে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। গাড়ি চলে যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে আবার দোকানের ঝাঁপ তুলে দেওয়া হয়। কোনো কোনো এলাকায় শিশু-কিশোরদেরকে মাঠে খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে বিপ্পজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বিভিন্ন সংস্থার ত্রাণ বিতরণের সময়। ত্রাণ বহনকারী যানবাহন ঘিরে দাঁড়ানো শত শত মানুষকে সামাল দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, একজন আরেকজনের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেষি করে দাঁড়ানোর কারণে করোনাসহ যেকোনো সংক্রামক রোগের জীবাণু সহজেই আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ত্রাণসামগ্রী পাওয়ার আশায় অভাবী মানুষের জটলা ক্রমে বেড়েই চলেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক দিন হতদরিদ্র মানুষজন ত্রাণের জন্য ছুটলেও এখন তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের লোকজনও ত্রাণের গাড়ির পাশে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। গাদাগাদি ভিড়ের কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে। তবে রাস্তায় জটলা সৃষ্টি করে এভাবে ত্রাণ বিতরণ থেকে বিরত থাকার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়েছেন। 

নগরীতে সীমিত পরিসরে হোটেল, রেস্তোরাঁসহ খাবারের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। নির্দেশনা অনুযায়ী আড্ডাবাজি যাতে না হয় সেজন্য দোকানে বসে খাওয়া যাবে না। খাবার কিনে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কোনো কোনো পাড়া মহল্লার হোটেলে খদ্দেরদের ভেতরে বসেই খাবার খেতে দেখা যাচ্ছে। জুবিলি রোড, চকবাজার, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটার ভেতর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। মালিক নিজে অথবা কোনো এক কর্মচারী দোকানের মধ্যে বা সামনে ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্রেতারা সরাসরি গিয়ে বা টেলিফোনে যোগাযোগ করে দোকানে এসে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমপির এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসা নিষেধ। তবে এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার সুযোগ নেই। শৃঙ্খলা বাহিনীর নমনীয় আচরণের কারণে মানুষ কোথাও কোথাও কিছুটা বেপরোয়া আচরণ করছে।