ঘরই যখন জিমনেশিয়াম

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৭

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়কালে গোটা দুনিয়ার মানুষের মতো বিশ্বের তারকা ক্রিকেটাররাও ঘরবন্দি। স্থবির হয়ে আছে ক্রিকেট। করোনাকালে নিজেদেরকে ফিট রাখতে ক্রিকেটারদের প্রচেষ্টার ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বাইরে অনুশীলন, জিম করার সুযোগ নেই। অনেক ক্রিকেটার ঘরকেই আপত্কালীন জিমনেশিয়াম বানিয়ে ফিটনেসের কাজ করে যাচ্ছেন।

বাসায় ডাইনিং টেবিল থেকে দরজার সোজা জায়গায় টেনিস বলে ব্যাটিং করছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। পরিশ্রমী ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম তো গোটা রুমকেই ব্যবহার করছেন ফিটনেসের কাছে। কাজের তালিকা, উপকরণে ঠাসা তার রুম। ট্রেডমিলে দৌড়াচ্ছেন নিয়মিত। ব্যাট হাতে নকিং করছেন। ব্যস্ততার এমন ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। বাংলাদেশের টি-২০ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও ট্রেডমিলে ঘাম ঝরানোর ভিডিও দিয়েছেন।

ঘরবন্দী ক্রিকেটাররা অপেক্ষায় আছেন ২২ গজে ফেরার। তরুণ আফিফ হোসেন ধ্রুব গতকাল ব্যাট হাতে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ওয়েটিং।’

তবে নিজেদের ফিট রাখতে ঘরেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন ক্রিকেটাররা। গতকাল সাইফউদ্দিন জানালেন, বাসায় কাজ করা ছাড়া উপায় নেই। গতকাল তরুণ এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘ওটাই তো এখন একমাত্র অবলম্বন। আর তো কিছু করার নাই।’

বাসায় ফিটনেসের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের কাজ করছেন সাইফউদ্দিন। গতকাল তিনি বলেন, ‘আসলে বাসায় ব্যাটিং প্র্যাকটিস করি। বোলিং করার মতো জায়গা নাই। বাসায় ডাইনিংয়ের দিকে একটা সোজা জায়গা আছে, ওখানে ব্যাটিং করি। আর ফিটনেস যখন করি তখন ছাদে করি। যখন আবার রিহ্যাবের কাজ করি, তখন আমার রুমে করি। রানিং বা স্কিপিংটা ছাদে করি।’

শুরুতে জড়তা থাকলেও এখন মানিয়ে নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে কয়েক দিন সমস্যা হয়েছিল, কি করব, না করব, প্ল্যান করতে পারছিলাম না। পরে ১৫-১৬ দিন বাসায়, এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বাসাটাকে সেভাবেই সেট করে নিয়েছি। যতটুকু করা যায় আর কি।’

জাতীয় দলের নতুন ট্রেনার নিক লি’র দেওয়া সূচি মেনেই ফিটনেসের কাজ করছেন ক্রিকেটাররা। সাইফউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নতুন যে ট্রেনার আসছে, ও আমাদের একটা প্রোগ্রাম দিছে। আবাহনীতে আমাদের ট্রেনার সিজার ভাই, উনি আমাদেরকে প্রোগ্রাম দিয়েছে। এছাড়া বোর্ডের ট্রেনার ইফতি ভাই আছে। আমাদের যতগুলো গ্রুপ আছে সবগুলোতে জিমের একটা শিডিউল দিছে।’

বিসিবির ট্রেনার ইফতেখারুল ইসলাম ইফতি জানান, বোর্ড থেকে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের কাজের নির্দেশনা দেয়া আছে। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের যে প্রোগ্রাম দিয়েছি, সেটা মাল্টি এক্সারসাইজ প্রোগ্রাম। এটা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম ঠিক রাখবে, স্ট্রেন্থ বাড়াবে, ফিটনেসের কাজ করবে।’

দিনে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা কাজই যথেষ্ট বলে মনে করেন এই ট্রেনার। তিনি বলেন, ‘যদি আপনি পাঁচ বার লাফ দেন তাহলে স্ট্রেন্থের কাজ করবে।

যদি ৫০ বার করেন তাহলে স্ট্রেন্থ ও এন্ডুরেন্সের কাজ করবে। তাতে কার্ডিও ভাসকুলার সিস্টেম কার্যকর থাকবে।’