শেষ দিনের প্রচারণায় গতকাল বৃহস্পতিবার উত্সবমুখর ছিল চট্টগ্রাম। নগরী ও জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী আসনগুলোতে ব্যাপক শো-ডাউন করেছে প্রার্থীরা। পাড়া-মহল্লায় প্রার্থীর প্রতীক নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রচারণায় অংশ নেয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শেষ দিনের প্রচারণায় অংশ নেয়। অনেক প্রার্থী ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে। চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের ১১৪ জন প্রার্থী রয়েছে। সকলেই কম বেশি গতকাল শেষ দিনের প্রচারণা চালিয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামে ৬টি নির্বাচনী আসনে ভোটের দিন সহিংস ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন এসব ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গতকাল শেষ দিনের প্রচারণায় আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীরা ব্যাপক শো-ডাউন করে। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়েছে। সিএনজি, অটোরিক্সা, ট্রাক, জিপ ও পায়ে হেঁটে প্রচারণা চালানো হয়। এসময় তারা দলীয় প্রতীক নৌকা, দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে শ্লোগান দিয়ে প্রচারণা চালায়। চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নিজে ও তার পক্ষে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। মহিলা লীগের কর্মীরাও ট্রাক নিয়ে প্রচারণা চালায়। চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা.আফসারুল আমীন ও এম.এ লতিফ স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় শেষ দিনের প্রচারণা চালান। প্রচারণায় দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা স্বত:স্ফূতভাবে অংশ গ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-২ আসনের মহাজোট প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, চট্টগ্রাম-৫ আসনের মহাজোট প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনে ড. হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মহাজোট প্রার্থী মইনুদ্দিন খান বাদল, চট্টগ্রাম-১২ আসনে শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভী ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।
এদিকে বিএনপি ও ঐক্যফন্টের প্রার্থীরা গতকাল শেষ দিনের প্রচারণা চালায়। চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শেষ দিনে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট, সিপিবিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছে। তবে শেষ দিনের প্রচারণায় যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় ছিল। সেনা সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে টহল দিতে দেখা গেছে।
সূত্র মতে, চট্টগ্রাম জেলায় ৬টি আসনে নির্বাচনে সহিংসতা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব এলাকায় ইতিপূর্বে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৩ আসনে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী দিদারুল আলম ও ধানের শীষের প্রার্থী ইসাহাক চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৫ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও ২০ দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যে এই এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় বহু লোক হতাহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম-১২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এলাকায় দু’দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম এর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ইতিমধ্যে দু’দলের মধ্যে একাধিক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু রেজা নদভী ও জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। চট্টগ্রামে এটি জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচিত। এখানের দলটি শক্ত অবস্থান থাকায় ভোটের দিন সহিংস ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। এলাকায় বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি নদভী দলের অবস্থান আগের চেয়ে সুসংহত করেছে।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াত চার সংগঠনই প্রার্থী রয়েছে। চট্টগ্রামে এই আসনটিতে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এলাকায় চারজনের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ইতিমধ্যে নৌকা, লাঙ্গল ও ধানের শীষ প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে অসংখ্য সহিংসতার ঘটনায় বহু লোক হতাহত হয়েছে। ফলে নির্বাচনের দিন সহিংসতার আশংকা রয়েছে।
