বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মাঝে সব ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই ভাবেই মাঠে কাজ করছে প্রশাসন ও স্বশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে জনসমাগমের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করেছেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমল।
কয়েকদিন আগে তিনি নিজেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার কথা বলে মাইকিং করে বলেছিলেন চলাচলের ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার। তার প্রচারণার উল্টো পথে গিয়ে হাজারো লোক জড়ো করে ১০ কেজি করে চাউল সহায়তা দিলেন তিনি।
করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে সবশ্রেণী পেশার মানুষকে যখন সরকার ঘরে থাকতে জোর খাটাচ্ছে তখন জেলার শীর্ষ জনপ্রতিনিধি এমন কাণ্ড অবাক করছে সবাইকে। তার এই কর্মকাণ্ডকে চূড়ান্ত রকমের ‘অসচেতনতা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করছেন অনেকেই।
মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, সাহায্য করতে গিয়ে কোনও লোকসমাগম করা যাবে না। ওয়ার্ড পর্যায়ে গিয়ে জনগণকে সচেতন করে দরকার হলে বাড়ির কাছে পাড়া মহল্লায় গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা দিতে হবে। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলে নির্দেশ দেন। সেই কন্ফারেন্সে নিজেও কথা বলেন এমপি কমল। অথচ এ ঘটনার ২৪ ঘন্টার মাথায় এসে দায়িত্বশীল পদে থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির এই কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে লোকসমাগমে ত্রাণ বিতরণ বিষয় সম্পর্কে জানতে সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়, ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও এক সাথে এত গাড়ির বহরের বিষয়টি নজরে এসেছে। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উখিয়ার ইউএনওকে।
কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিস সূত্র বলেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য, স্বাস্থ্য সেবা ও করোনায় সচেতনতার দায়িত্বে থাকা এনজিওগুলোর কর্মীদের গাড়িই কেবল আসা যাওয়া করছে।
ইত্তেফাক/এসআই
