গাইবান্ধা প্রতিনিধি
আজগর আলী (৫০) পেশায় দিনমজুর, ছয় সদস্যের সংসার। বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার গোঘাট গ্রামে। গ্রামেই দিনমজুরের কাজ করেন। বোরো রোপণ ও কর্তনের সময় ব্যস্ত থাকেন। অন্য সময় ঢাকায় রিকশা চালান। গ্রামে কাজ না থাকায় এক মাস আগে তিনি ঢাকায় যান। যাওয়ার আগে এক সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। রিকশা চালিয়ে বাড়ির খরচ ও ঋণ পরিশোধের কথা। কিন্তু করোনার কারণে তাকে কাজ ছেড়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
আজগর আলী বললেন, সাত দিন আগে বাড়ি এসেছি। ঢাকা থেকে ৩ হাজার টাকা এনেছিলাম। ঋণের টাকা দিয়েছি, এখন হাতে কাজ নেই। সাত দিনে আড়াই হাজার টাকা ধার করেছি। কাজ পেলে ঋণের টাকা শোধ করব, না কি সংসার চালাব চিন্তায় আছি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের সবজি বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, পার্শ্ববর্তী কামারজানি বাজারে সবজি বিক্রি করতাম। কোনোমতে পাঁচ জনের সংসার চলত। কিন্তু করোনার কারণে দোকান বন্ধ। তিন দিন ধরে অন্যের রিকশা চালাচ্ছি। শহর ফাঁকা, রিকশায় ওঠার লোক নেই। দৈনিক ২০০ টাকা ভাড়ায় মহাজনের কাছে রিকশা নিয়েছি। কিন্তু মহাজনকে দেব কি? আর বাজার করব কীভাবে। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, জেলায় সরকারি সহায়তা হিসেবে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। তালিকা প্রস্তুতের পর প্রত্যেক পরিবারে চাল, ডাল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দিয়ে প্যাকেট প্রস্তুত করে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া নিজেও অনেক বাড়িতে চাল, ডাল পৌঁছে দিচ্ছি।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানুষজন ঘরে অবস্থান করায় দিনমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। ফুলবাড়ী উপজেলার একাধিক শ্রমের হাটে শ্রমজীবী ও দিনমজুরদের অসহায়ত্বের এমন চিত্র চোখে পড়ে বৃহস্পতিবার।
উপজেলার অন্যতম শ্রমের হাট স্বজনপুকুর রেল ঘুমটি এলাকা। ঐদিন সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, কাজের সন্ধানে আসা মানুষের কারো হাতে ডালি-খন্তা। আবার কারো হাতে ডালি-কোদাল। ১০-১৫ জন শ্রমজীবী মানুষ বসে আছেন। দিনমজুর আবেদ আলী বলেন, করোনার জন্য ঘরে বসে থাকলে কি কপালো চাল জুটবে। তিন দিন থেকে কামকাজ নেই। মানুষের কাছে হাত পেতে চাল-ডাল কিনে খেতে হবে। সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে, তিন জন দিনমজুর কাজের সন্ধানে বসে আছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, সরকারি বরাদ্দ ত্রাণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রকৃত হতদরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, শুধু সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ নয়, স্থানীয়ভাবেও ত্রাণের সংস্থান করা হয়েছে। কোনো পরিবার না খেয়ে আছে এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিবারে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
