ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্যস্ততম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নেই কোনো যানবাহনের আওয়াজ। থেমে থেমে চলছে দু-একটি রিকশাভ্যান। নীরবতায় আচ্ছন্ন পুরো উপজেলার গ্রাম ও সড়কগুলো। কিন্তু এর মধ্যে অনায়াসে মাটি আর পানি দিয়ে ইটভাটায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত শ্রমিক। নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাধারণ একটি মাস্কও ব্যবহার করছেন না তারা। উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে ভাটার স্তূপ থেকে গুলানো মাটি নিচ্ছেন বেশ কিছু শ্রমিক। সেখান থেকে ট্রলি দিয়ে আবার ইট বানানোর লাইনে মাটি নিচ্ছেন কেউ কেউ। সেখানে ইট বানিয়ে যাচ্ছেন আরো কিছু শ্রমিক। এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে ইটভাটা শ্রমিকদের।
এ সময় এক জন শ্রমিক বলেন, কাজ না করলে খাব কি, আমাদের মালিক পক্ষের কাছ থেকে দাদন নেওয়া। আমরা কাজ না করতে পারলে ঘরের বাজার হবে না, পরিবার না খেয়ে থাকব। অপর এক শ্রমিক জানান, শুনেছি দেশে না-কি কি রোগ এসেছে, কিন্তু আমাদের তো আর কিছুই করার নেই দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাতে কাজ করতেই হবে। উপজেলার কনিকারা গ্রামের সুমন ব্রিক্স ইটভাটার মিল সরদার প্রদীপ বর্মণ জানান, প্রতিটি মিলে ৫০ জন করে শ্রমিক কাজ করেন। এদের অনেককেই কাজের আগে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অনেককেই আবার সপ্তাহ শেষে বেতন দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সরকার এখনো পর্যন্ত আমাদের কোনো নোটিশ দেয়নি, কাজ বন্ধ করতেও বলা হয়নি। এছাড়া আমরা কাজ বন্ধ করতে পারছি না, কাজ বন্ধ করলে শ্রমিকরা কি খাবেন।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম জানান, বর্তমান অবস্থায় ইটভাটা চালু রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
