গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২০০ শয্যাবিশিষ্ট গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। হাসপাতালের শয্যাগুলো এখন ফাঁকা। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের বেডগুলো এখন রোগীশূন্য। তবে আউটডোরে এবং ইমার্জেন্সিতে শুধুমাত্র দুই জন চিকিত্সককে উপস্থিত থেকে চিকিত্সা দিতে দেখা গেছে। এছাড়া ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের সেবায় দুই নার্স ও একজন আয়াকে কর্মরত দেখা গেছে। তবে আউটডোরে রোগীর উপস্থিতি ছিল দুই থেকে তিন জন। বহির্বিভাগের টিকিট বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে বহিঃবিভাগে চিকিত্সা নিতে কম রোগী আসছেন। যে কয়েকজন আসেন তাদেরকে জরুরি বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে কর্তব্যরত নার্স শিরিনা খাতুন বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে দুই-একজন করে মারামারির রোগী ভর্তি হচ্ছে। কে কোথা থেকে আসছে, কার শরীরে কি রোগ আছে, আমরা জানি না। অথচ তাদেরকে আমাদের সেবা দিতে হচ্ছে। সে হিসেবে আমাদেরকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মাক্স ও গাউন এবং অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে আমরাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছি। গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. হারুন-অর-রশিদ বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হচ্ছেন না। যারা আগে ভর্তি ছিলেন, তারা ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, সোমবার হাসপাতালে দুই জন রোগীকে ছুটি দেই। কিন্তু গতকাল ১৭ জন রোগী আমাদের না বলে পালিয়ে যায়। তাই হাসপাতাল প্রায় রোগীশূন্য।
বদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমে গেছে রোগী
বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, প্রায় রোগীশূন্য বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। করোনা আতঙ্কে রোগীরা আর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন না। যে দু-চার জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন তারা ছিন্নমূল স্বল্প আয়ের মানুষ। ডাক্তাররাও রোগীদের সেবা দিতে বেশি আগ্রহী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন চিত্রই চোখে পড়ে। বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরশাদ হোসেন জানান, করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে রোগী আসছে না। আমরাও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দিচ্ছি। আর যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাদেরও আমরা আমাদের সাধ্যমত সেবা দিচ্ছি।
