রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু:রুশ রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৩৮

বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ইগনাতোভ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। আলোচনার মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান হওয়া উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ-রাশিয়ার বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের ৪৭ বছর’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ-রাশিয়া মৈত্রী সমিতি। এতে সভাপতিত্ব করেন মৈত্রী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি রুশ রাষ্ট্রদূত ইগনাতোভ।

এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত ইগনাতোভ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এখানে চীন একটি অবস্থান নিয়েছে। তবে আমাদের অবস্থান খুবই সাধারণ। আমরা চাই, আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের দ্বিপক্ষীয় সমাধান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সামগ্রিক সমাধানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনও প্রস্তাব করা হলে রাশিয়া তাতে সমর্থন করবে না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, চাপ প্রয়োগ করলে আরও বেশি সমস্যা তৈরি হবে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিনে দিনে আরো গভীর হচ্ছে। আগামী দিনে এ সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে তিনটি খাতে সহযোগিতা বাড়ছে। প্রথমটি হলো সামরিক সহযোগিতা, দ্বিতীয়টি হলো বিদ্যুত্ ও গ্যাস খাতে সহযোগিতা এবং তৃতীয়টি হলো ব্যবসা-বাণিজ্যিক সহযোগিতা। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দেড় বিলিয়নেরও বেশি বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে। এ সম্পর্ক আগামীতে আরো শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ-রাশিয়া মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুল্লাহ শিকদার ও জাতীয় প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি সাইফুল আলম।