সৈয়দ শামসুল হুদার কথায় শেখ লুতফর রহমানের সুরে একটি গান—‘রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশ দিল ডাক সুনীল ভোরে/শপথের মশাল হাতে ছুটে চল নতুন প্রাতে/বাজা রে অগ্নিবীণা প্রাণে প্রাণে প্রান্তরে’
গাছে গাছে লাল আগুন ছড়িয়ে এখন ফুটে আছে শিমুল ফুল। ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র তীরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যানে হাঁটতে গিয়ে দেখলাম শিমুল গাছে আগুনরঙা লাল ফুলের উচ্ছ্বাস।
শিমুল পাতাঝরা বৃক্ষ। বৈজ্ঞানিক নাম Bombax ceiba, এটি Bombacaceae পরিবারের উদ্ভিদ। এরা পশ্চিম আফ্রিকা, ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়া ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ার উপউষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের স্থানীয় প্রজাতি। চীনের ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ থেকে জানা যায়, ন্যাম ইউয়েতের রাজা চিউ তো খ্রিষ্ট-পূর্ব দ্বিতীয় শতকে হ্যান শাসনামলে সম্রাটকে দিয়েছিলেন। একে সংস্কৃত ভাষায় ‘শাল্মলি তরু’ বলা হয়।
গাছের উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ মিটার। কাণ্ডের চারপাশে সুবিন্যস্ত থাকে শাখা-প্রশাখা, তবে সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বৃহদাকার শিমুল গাছে অধিমূল জন্মে। গাছের গায়ে কাঁটা থাকে, যার গোড়ার অংশ বেশ পুরু। তবে বয়স্ক গাছে তেমন কাঁটা থাকে না। শীতের শেষে পাতা ঝরে যায়, ফাল্গুনে ফুল ফোটে। ফল মোচাকৃতি। চৈত্র বা বৈশাখ মাসে ফল ফেটে শিমুল তুলা বেরিয়ে আসে।
প্রধান কাণ্ড সরল ও অবিভক্ত। অল্পবয়সী গাছে কাঁটা থাকলেও বয়স্ক গাছ সাধারণত নিষ্কণ্টক। বাকল ধূসর এবং রুক্ষ। লাল বা কমলা রঙের বড়ো বড়ো ফুল দেখতে আকর্ষণীয়। লম্বাটে ফল তুলাভরা। কাঠ নরম, হালকা, টেকসই নয়।
চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বন ছাড়াও দেশের সর্বত্রই জন্মে। দেশলাই বাক্স ও কাঠি তৈরিতে এই কাঠের ব্যবহার ব্যাপক। এছাড়া শিমুল কাঠ প্যাকিং বাক্স, খেলনা, পেন্সিল, তক্তা, কফিন ইত্যাদি তৈরিতে লাগে এবং চাহিদাও যথেষ্ট। শিমুল তুলা দিয়ে ভালো বালিশ ও গদি বনানো যায়।
এই গাছের আঠা ও শেকড়ের ভেষজগুণ আছে। শিমুলগাছের ছাল ঘা সারাতে সহায়তা করে। রক্ত আমাশয় দূর করে। ফোড়ার ওপর ছালের প্রলেপ দিলে উপকার হয়।
