ওদের জীবন চলে ভিক্ষা করে, মিলছে না বয়স্ক বা বিধবা ভাতা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৯

কুমিল্লার হারাখাল গ্রাম

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম ‘হারাখাল’। ঐ ইউনিয়নের মধ্যে এই গ্রামে ভিক্ষুক বেশি। করোনার প্রভাবের মাঝেও ঐ গ্রামের ২০ জনের মতো মানুষ হাত পেতে (ভিক্ষা করে) জীবন ধারণ করেন। তারা বস্তিবাসী। তাদের অর্ধেকেরই নেই মাথা গোঁজার ঘর। কারো ভিক্ষে না করলে চুলা জ্বলে না। তারা বয়স্ক ও বিধবা তালিকায় ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত হলেও তা পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ঐ গ্রামের ভাগ্য বিড়ম্বিত এসব মানুষগুলোর মধ্যে অন্তত ১০ জন তাদের জীবনের নানা কথা তুলে ধরেছেন। কথা হয় বিধবা নারী আসিয়া বেগমের (৬২) সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্বামী গোলাম মিয়া বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তার একটি ছেলে, দুইটি মেয়ে রয়েছে। একমাত্র ছেলে দুর্ঘটনায় কোমর ভেঙে ঘরে পড়ে আছে। বিধবা ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত হলেও তিনি এখনো কোনো ভাতা পান না।

ঐ গ্রামের আরেক বিধবা নারী পেয়ারা বেগম (৬৫)। তার স্বামী আবদুস সালাম মারা যাওয়ার পর এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে একটি ঝুপড়ির মতো ঘরে কোনোমতে বসবাস করেন। তিনিও কোনো বিধবা ভাতা পান না বলে জানান। মনোয়ারা বেগম (৬৩), স্বামী মৃত মোসলেম মিয়া। তার এক ছেলে। তিনিও কোনো ভাতা পান না। ফাতেমা বেগমের (৬০) স্বামী এছাক মিয়া এক ছেলে, দুই মেয়ে রেখে মারা গেছেন। তিনিও পান না বিধবা ভাতা। আকলিমা বেগমের (৪০) জীবনের গল্প একই। তার স্বামী আবুল কালাম তিন ছেলে রেখে মারা যান। ছেলেরা ছোটো। তিনিও কোনো ভাতা পান না। জোসনা বেগম (৩২), স্বামী আলমগীর হোসেন নেই। তারও তিন ছেলে, ভাতা পান না। হালিমা খাতুনের (৩২) স্বামী জসিম উদ্দিন মারা গেছেন। তার একটি মেয়ে আছে, নেই থাকার ঘর। কোনো ভাতাও পান না।

বয়োবৃদ্ধ আসিয়া বেগম, পেয়ারা বেগম, মনোয়ারা বেগম ও ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমাদের বয়স হইছে। এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ভিক্ষা কইরা জীবন চলে। এখন আর পা চলে না। একটি ঘর আর ভাতা পাইলে শান্তিতে থাকতে পারতাম।’ তারা আরো বলেন, ‘করোনা রোগে মানুষ মরে হুনছি, কিন্তু ঘরে থাকলে পেট চলব কেমনে।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লাকসাম উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা উপন্যাস চন্দ্র দাস বলেন, ‘ভিক্ষুকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা নেই। তবে তাদেরকে বয়স্ক তালিকায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বিধবা ও অসহায় লোকজন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যবস্থা নেব।’