বান্দরবানে স্বেচ্ছায় লকডাউনে পাঁচ গ্রামের পাহাড়িরা!

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:০১

বান্দরবান প্রতিনিধি

পাহাড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বান্দরবানের পাঁচটি গ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছায় লকডাউনে রয়েছে। বাইরের লোকজনের প্রবেশ এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া ঠেকাতে পাড়ার প্রবেশমুখে বাঁশের গেট দিয়ে চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন ম্রো জনগোষ্ঠীরা। ঘটনাটি ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে।

শুক্রবার সকালে বান্দরবান সদরের চিম্বুক পাহাড়ের অদূরে চারটি পাহাড়ি গ্রামের জনগোষ্ঠীরা চতুর্থ দিনের মতো লকডাউনে অবরুদ্ধ বন্দি অবস্থায় কাটাচ্ছে। পাহাড়ি পাড়া (গ্রামগুলো) হলো—রাংলাই ম্রো পাড়া, মধ্যম পাড়া, সিংচ্যং পাড়া, ম্রলং ম্রো পাড়া এবং লামা সদরের ছাগলখাইয়া মংক্যচিং হেডম্যান পাড়া। গত ২৭ মার্চ থেকে পাড়াগুলোর জনগোষ্ঠীরা স্বেচ্ছায় লকডাউনে আবদ্ধ হয়।

রাংলাই ম্রো পাড়ার বাসিন্দার প্যালে ম্রো এবং মধ্যম পাড়া বাসিন্দা ইয়ংরে ম্রো বলেন, মহামারি ঠেকাতে পাড়া বন্ধের প্রথাটি তাদের দীর্ঘদিনের পুরোনো। ম্রো ভাষায় এই প্রদ্ধতিকে বলা হয় “খাসুর” করে রাখা। সরকারি ভাষায় লকডাউন বলা হচ্ছে। পাড়া বন্ধ গেট দেওয়া হলে বাইরের মানুষ পাড়ায় ঢুকতে পারে না, পাড়ার ভেতরের লোকজনও বাইরে যেতে পারে না। প্রয়োজনে পাড়ার কেউ বাইরে গেলেও তাকে বাইরেই অবস্থান করতে হবে, পাড়ার ভেতর আসতে দেওয়া হয় না। যতদিন না এটি খোলা না হয়।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠী রেংটন ম্রো দাবি করেন, পাহাড়ি গ্রামগুলোর মানুষেরা দরিদ্র এবং শ্রমজীবী মানুষ। যেহেতু বর্তমানে কর্মহীন তারা। সেক্ষেত্রে সরকারের উচিত অসহায় এই পাড়াবাসীর দিকে নজর দেওয়া।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার মানুষদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। সারাদেশ লকডাউন করা হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি গ্রামের মানুষরা স্বেচ্ছায় নিজেরাই লকডাউন করে পাড়া বন্ধ করে দিয়েছে। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। লকডাউনে থাকা পাড়াগুলোর জনগোষ্ঠী যাতে খাবারে কষ্ট না পায়, সেজন্য পরিষদের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।