কুমিল্লায় বিপাকে বোরো চাষিরা

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:০১

কীটনাশক দোকান বন্ধ

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় কীটনাশকের দোকান বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। তারা বোরো মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বোরো ফসল নিয়মিত মনিটরিং করছেন এবং কীটনাশক দোকান বন্ধে সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই, তাই ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা নেই।  গত ২৫ মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশনায় কুমিল্লা নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্য দোকানের মতো কীটনাশক দোকান বন্ধ থাকায় প্রত্যাশিত ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। আবার কোথাও কীটনাশক দোকান খোলা থাকলেও গণপরিবহন বন্ধের অজুহাতে অধিক দামে সার ও কীটনাশক বিক্রি করা হচ্ছে। জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার, মিথলমা, আবিদপুর, কোরপাই এলাকার অন্তত কয়েক জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু কীটনাশক দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণের ভয়ে বিক্রেতাদের অনেকে দোকান খোলেন না। আবার কোথাও পাওয়া গেলেও দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। তাই সরকারিভাবে কৃষকদের সহায়তা প্রয়োজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সার বিক্রেতা জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শহর থেকে প্রায় এক সপ্তাহ যাবত্ সার ও কীটনাশক আনা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া করোনা সংক্রমণের ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে দোকানে যাওয়া হচ্ছে না। মজুত কম থাকায় হয়তো কোনো কোনো দোকানি কিছু বেশি দামে বিক্রি করছেন।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সুরজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৪০ হেক্টর ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এক্ষেত্রে কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের মোবাইলে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, করোনার প্রভাবে সার ও কীটনাশক দোকান যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের মতো সার ও কীটনাশক দোকান বন্ধে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই। বিষয়টি এখন আমাদের নজরে এসেছে। কৃষকরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং বোরো মৌসুমের ফলনে যেন বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করার জন্য কৃষি কর্মকর্তা, সার ও কীটনাশক দোকানিদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।