যেভাবে ফিরলেন কোহলি

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:১০

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিরাট কোহলি মানেই সাফল্য। এই চিত্রটাই গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেখে আসছে ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু এই চিত্রটাও একবার ভিন্ন হয়েছিল। ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে ভয়াবহ ব্যর্থ হয়েছিলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। সেখান থেকে তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন, এমনটা অনেকেই বিশ্বাস করছিল না। কিন্তু কোহলি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

নিজের সেই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পই বলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। কেভিন পিটারসেনের সঙ্গে এক ইনস্টাগ্রাম আলাপে সেই সংগ্রাম সম্পর্কে বলছিলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে তলানির অধ্যায় ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফর। সেটি এমন একটি সময়, এক জন ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনিও (পিটারসেন) বুঝতে পারবেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি বুঝতে পারতাম, রান করার কোনো সম্ভাবনাই নেই আমার। তার পরও বিছানা ছাড়তে হয়েছে, খেলার পোশাক পরতে হয়েছে, মাঠে গিয়ে ঐ প্রক্রিয়াটার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে।’

সেই সফরের ১০ ইনিংসের ৭ বারই আউট হয়েছিলেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। সময়টা বলতে গিয়ে কোহলি বলেছেন, ‘প্রতিদিনই জানতাম যে নিশ্চিত ব্যর্থ হতে যাচ্ছি, এটি আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করেছিল। পুরোপুরি বিধ্বস্ত দিয়েছিল। এরপরই আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, ঐ অবস্থার ভেতর দিয়ে নিজেকে২ আর কখনোই যেতে দেব না।’

তবে কোহলি মনে করেন, এই ব্যর্থতাটা টেকনিক্যাল নয়, এটা আসলে মানসিক একটা সমস্যা, ‘টেকনিকের ব্যাপারটিও কিন্তু পুরোপুরি মানসিক। আমরা এখন এমন এক যুগে খেলছি, যেখানে ফাস্ট বোলারকেও ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে মারতে হয়। কোচরা তো আর সেসব শেখায় না। উদ্ভাবনী কিছু করতে হয়। প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হয়। যদি ভাবতে থাকি যে দলকে কীভাবে জেতাব, এই ব্যাপারগুলো মাথায় আসে।’

নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন কোহলি। নিজেকে গড়েছেন নতুনভাবে। তরুণদেরও বলছেন একই ভুল না করতে, ‘তরুণ যারা শুনছে, সবাইকে বলছি, অমনটি হয়েছিল কারণ আমি নিজে খুব ভালো করতে চেয়েছিলাম। রান পেতে মরিয়া ছিলাম। তখন ভাবতে পারিনি, এই পরিস্থিতিতে দল আমার কাছে কী চায়। ঐ সফরটি নিয়ে আমি খুব বেশি ভেবে ফেলেছিলাম যে, এখানে টেস্টে ভালো করলেই মনে হবে আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছি। এই ভাবনাগুলোই আমাকে খেয়ে ফেলেছিল। ক্রমাগত কেবল তলানির দিকেই ধাবিত হয়েছি, এটি থেকে বের হতে পারিনি। ভয়ংকর অভিজ্ঞতা!’