করোনার প্রভাব
শফিকুর রহমান রয়েল
ফের মন্দায় জর্জরিত হয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ধুঁকতে থাকাটা একেবারে নিশ্চিত হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করতে গিয়ে বৈশ্বিক আয়ের যে ক্ষতি হবে, তার করুণ পরিণাম ভোগ করতে হবে উন্নয়নশীল বিশ্বকে। কিন্তু জাতিসংঘের বাণিজ্য পরিষদ (ইউএনসিটিএডি) এ সম্পর্কিত যে নতুন তথ্য দিয়েছে, তাতে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। কেন এবং কীভাবে এ দুইটি প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত খোলাসা না করলেও জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারত ও চীন সম্ভবত মন্দায় পড়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দুই রাষ্ট্র হিসেবে নজির স্থাপন করবে। প্রকৃতপক্ষে, মন্দা শুরু হয়ে গেছে। কোভিড-নাইনটিন খ্যাত করোনা ভাইরাস পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় এখন বলতে গেলে মৃত্যুর মিছিল চলছে; স্থান, কাল ও পাত্রের বাছবিচার না করেই প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে যমদূত। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সম্পূর্ণ অচেনা এই ভাইরাসের উত্সস্থল চীনের উহান শহর হলেও মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় ভোগান্তি বেশি হচ্ছে উন্নত বিশ্বের। কিন্তু অর্থনীতির আসল ধকলটা সইতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই। জাতিসংঘের বাণিজ্য রিপোর্টে অন্তত তাই বলা হচ্ছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ভারত ও চীন মারাত্মক কোনো সমস্যায় না পড়েই করোনা ভাইরাস সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করবে।
ধরিত্রীর মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বসবাসকারী উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনীতি করোনা ভাইরাসের কারণে আজ অভূতপূর্ব ক্ষতির সম্মুখীন। তাদের হিসেবে পণ্য রপ্তানি-সমৃদ্ধ উন্নয়নশীল দেশসমূহে আগামী দুই বছরে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে দুই থেকে তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইউএনসিটিএডি জানিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রসর অর্থনীতিসমূহ এবং চীন বিশালাকারের সব সরকারি প্যাকেজকে আরো সংহত করেছে। অগ্রসর অর্থনীতিগুলোর গ্রুপের (জিটুয়েন্টি) তথ্যানুসারে, তারা তাদের অর্থনীতির জন্য লাইফলাইনকে বিস্তৃত করে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করবে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলো তো আর এমন আশা করতে পারে না। বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার মধ্যেই থাকলে বৈশ্বিক আয়ের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। এতে করে নিঃসন্দেহে ভীষণ সমস্যায় পড়বে উন্নয়নশীল দেশসমূহ। কিন্তু খুব সম্ভবত ভারত ও চীনের নেতিবাচক প্রভাবে কাহিল হয়ে পড়বে না। অবনমনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আর্থিক বিনিময়ের পাশাপাশি বিদেশি লোকের আসা-যাওয়াও আরো কঠিন নিয়মে বাঁধা হবে, যেটি চলতে পারে চলতি বছরের পুরো সময়েই।
রিপোর্টে কোনো কিছু গোপন না করেই বলে দেওয়া হয়েছে, করোনা ভাইরাস চীনের বাইরে ছড়াতে থাকার দুই মাসের মধ্যে উন্নয়নশীল বিশ্ব পুঁজির বহিঃপ্রবাহ কমে যাওয়া, বর্ধিষ্ণু ঋণপত্র বিস্তার, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, রপ্তানি আয়ের হ্রাস, পণ্যের মূল্যপতনসহ পর্যটন রাজস্ব নেমে আসার মতো ভয়াবহ আঘাত সইতে শুরু করেছে। আর এটি কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই যে, করোনা মহামারির সঙ্গে মন্দা যুক্ত হওয়ার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। এর পরিণতিতে অনেক উন্নয়নশীল দেশে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে; থামিয়ে দেবে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণের গতিকে পুরোপুরিই থামিয়ে দেবে।
—ইকোনমিক টাইমস অনুসরণে
