আবুল কাসেম ভূঁইয়া
সারা বিশ্বেও ভয়াবহ আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাস এখন বাংলাদেশে এসেছে। করোনার আক্রমণ থেকে দেশের জনসাধারণকে রক্ষা করার জন্য সরকার দেশে লকডাউন করেছে। দেশ আজ থমকে আছে। সব কিছু বন্ধ হয়ে আছে। মানুষ নিরাপত্তার জন্য ঘরের মধ্যে রয়েছেন। করোনার প্রভাব আমাদের দেশের সর্বক্ষেত্রে পড়েছে। প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। কৃষির ওপর আমাদের অর্থনীতি অনেকটা নির্ভরশীল। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ। মানুষ ঘরের মধ্যে আবদ্ধ। বাজারগুলোতে লোকের সমাগম নেই বললেই চলে।
আমাদের দেশের এগিয়ে যাওয়া কৃষি ক্ষেত্র অনেকটা থমকে গেছে। কৃষকরা তাদের উত্পাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। কৃষির মধ্যে সমৃদ্ধশালী খাত ডেইরি শিল্প আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। দেশের হাজার হাজার ডেইরিফার্মে উত্পাদিত দুধ খামারিরা ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারছে না। উন্নত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দুধ সংরক্ষণ করতে পারছে না। দুধের অন্যতম গ্রাহক হলো দেশের মিষ্টির দোকানগুলো। বর্তমানে দেশের সব মিষ্টির দোকান বন্ধ থাকায় খামারিদের দুধ আর বিক্রি হচ্ছে না। তাছাড়া দুধের খুচরো ক্রেতারা ঘরের বাইরে না আসায় দুধ নিচ্ছে না। খামারিরা দুধের দাম কমিয়ে দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। ডেইরি শিল্পের পর পোলট্রি শিল্পেও ধস নেমে এসেছে।
দেশের হোটেল রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান, বেকারিগুলো বন্ধ থাকাসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় পোল্ট্রি শিল্পে উত্পাদিত মুরগি এবং ডিমগুলো অবিক্রীত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। বাজারে ক্রেতা না থাকায় মাছ বিক্রিও তেমন হচ্ছে না। কৃষি ক্ষেত্রের সবচেয়ে বড়ো গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে দেশের সবজি শিল্প। সবজির এই ভরা মৌসুমে সবজির ক্রেতা নেই। দেশের কৃষি খাতকে রক্ষা করতে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকদের আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে তাদের টিকে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
