ভাবিয়া করিও কাজ...

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৫

থমকাইয়া গিয়াছে গোটা বিশ্ব। কঠিন সময় পার করিতে হইতেছে ছোটো-বড়ো, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও দুর্বল সকল দেশকেই। উহা যে কেবল শারীরিক সংক্রমণের দিক হইতে তাহাই নহে, কেহ কেহ ধারণা করিতেছেন, আধুনিক বিশ্বের অর্থনীতিতে নামিয়া আসিতেছে এমন এক বিপর্যয়, যাহা পূর্বে কখনোই দেখা যায় নাই! বিশ্বের ধনী দেশগুলি বিশাল আকারের প্যাকেজ ঘোষণা করিয়াছে এই বিপর্যয়কে সাময়িক উপশম করিবার নিমিত্তে। যুক্তরাষ্ট্র ২ ট্রিলিয়ন ডলার প্রণোদনা ঘোষণা করিয়াছে, যাহা ৯৬-০ ভোটে সিনেটে পাশ হইয়াছে। এই অর্থ যাইবে অবকাঠামো, এয়ারলাইনস, সড়ক, বিভিন্ন বড়ো ও ছোটো কোম্পানি, বেকারদের নিকট। দেশটির ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বলিয়াছে, ৪ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ বেকার হইয়া পড়িবে। ইতোমধ্যেই ৩৩ লক্ষ মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করিয়াছে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র এমনই দেশ, যাহার মুদ্রা আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসাবে স্বীকৃত। প্রয়োজনে তাহারা ডলার ছাপাইয়াও নিজেদের টিকাইয়া রাখিতে পারিবে। যুক্তরাজ্য ১১ মার্চ হইতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দফায় ৬৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মকর্মসংস্থানে জড়িত নাগরিকদের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করিয়াছে। ব্রিটেনের চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার রিশি  সুনাক বলিয়াছেন, যত কষ্টই হোক, ব্রিটেনের বাণিজ্যের চাকা চালু রাখিতে হইবে। ইউরোপের আরেক শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানি ৭৫০ বিলিয়ন  ইউরো (৮১৪ বিলিয়ন ডলার) প্যাকেজ ঘোষণা করিয়াছে অর্থনীতির চাকা সচল রাখিবার জন্য। অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ সব শক্তিশালী অর্থনীতির দেশই এইরূপ উদ্যোগ লইয়াছে। সাময়িক অসুবিধার পর এই সকল দেশে উত্তরণ ঘটিবে তাহা অনুমান করিলে খুব ভুল হইবে না।

কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলির কী হইবে? সীমিত আয়, সীমিত সম্পদের দ্বারা বড়ো প্যাকেজ ঘোষণা সম্ভব নহে। তাহার উপর সীমিত সামর্থ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব দেখা দিলে সবকিছু বিশৃঙ্খল হইয়া পড়ার আশঙ্কা আছে। অর্থনীতির চাকা যদি বন্ধ হইয়া থাকে, কী হইবে সামনের দিনগুলিতে উহা ভাবিতেও গাত্র শিহরিয়া উঠে। তাহার উপর এই সকল দেশে থাকে কিছু অশুভ শক্তি, যাহারা দেশের ‘ভোলাটাইল’ অবস্থায় ঘোলা পানিতে মত্স্য শিকার করিয়া থাকেন। তাহারা হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ হইতে বাহির করিয়া লইয়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করেন। আরো বড়ো মুশকিল হইল, ইহারাই কোনো সঠিক, বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হইয়া দাঁড়ান তাহাদের সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থের দিকে লক্ষ রাখিয়া।

সুতরাং, এই সকল উন্নয়নশীল দেশের উচিত হইবে সুস্থ, স্থির মস্তিষ্কে সঠিক ব্যক্তিদের লইয়া আলোচনায় বসা। এবং এখনই তাহার জন্য উপযুক্ত সময়। মনে রাখিতে হইবে, যে কোনো উপায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সচল রাখিতে হইবে। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই সকল শিল্পের চাকা স্থির হইয়া গেলে  স্তব্ধ হইয়া যাইবে অর্থনীতি। শুরু হইবে রাজনৈতিক অস্থিরতা। যাহারা এই সকল দেশে কুবুদ্ধি দিয়া থাকেন, ফায়দা লুটিয়া থাকেন, তাহারা অস্থিরতা দেখিলেই সিঙ্গাপুরে গিয়া আশ্রয় লইবেন। বিপদগ্রস্ত হইবেন সেই সকল ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদগণ, যাহারা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসায়-বাণিজ্য করিতে চাহেন; যাহারা সততার সঙ্গে দেশকে আগাইয়া লইতে চাহেন।