টেকসই কৃষি উন্নয়ন

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:২০

মো. বশিরুল ইসলাম

অর্থনীতিতে কৃষির আনুপাতিক অবদান কমলেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধির দ্রুতগতির সঙ্গে সীমিত ও সংকুচিত হয়ে আসা জমি নিয়েও মোট কৃষি উত্পাদন বাড়ছে, যা অভাবনীয়। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, সার এবং যন্ত্রের ব্যবহার উত্পাদন বাড়ার পেছনে প্রধান উজ্জীবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তার সঙ্গে বিশেষ অবদান রয়েছে আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিবিষ্ট গবেষণায় উচ্চফলনশীল, কম সময়ে ঘরে তোলা যায় এমন জাত ও পরিবেশসহিষ্ণু নতুন জাত উদ্ভাবন। ধান-পাটের পাশাপাশি খাদ্যশস্য, শাকসবজি, রকমারি ফল, সমুদ্র ও মিঠাপানির মাছ, গবাদিপশু, পোলট্রি মাংস ও ডিম, উন্নত জাতের হাঁস-মুরগি, দুগ্ধ উত্পাদন অনেক বেড়েছে।

স্বাধীনতার পর বিগত ৪৯ বছরে ধান উত্পাদন বেয়েছে চারগুণ। যা বিশ্বে চতুর্থ। শাকসবজি উত্পাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয়। প্রাকৃতিক উত্স থেকে আসা মাছ উত্পাদনে তৃতীয়, যা চীন-ভারতের পরেই রয়েছে। মাছ রফতানি  বেড়েছে ১৩৫গুণ। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। আলু উত্পাদনে সপ্তম এবং প্রতি বছরই উদ্বৃত্ত থাকে বিপুল পরিমাণে। এছাড়া আম উত্পাদনে বিশ্বে সপ্তম এবং পেয়ারাতে অষ্টম। বাংলাদেশ থেকে আলু, সবজি আর আম রফতানি হচ্ছে বিদেশে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের জন্য উদাহরণ।

ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল বিশ্বের সেরা জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত ১০ বছরে মাংসের উত্পাদন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। প্রাণিসম্পদ বিশেষত পোলট্রিশিল্প দেশে গার্মেন্টসের পরই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হিসেবে বিবেচিত। কৃষিবিজ্ঞানীরা পাটের ওপর এবং মত্স্যবিজ্ঞানীরা ইলিশের ওপর গবেষণা করে এদের জীবন রহস্য উদ্ভাবন যুগান্তকারী ঘটনা।

তবে এটা ঠিক, আমরা সব সময়ই দেশে ভালো ফলনের খবর রাখি। কিন্তু কৃষক উত্পাদিত ফসল বিক্রি করে তার খরচ তুলতে পারল কি না তার কোনো হিসাব পাই না। সরকার যতোই উপকরণ সহযোগিতা দিক না কেন, তার দাম কৃষককে দিতেই হয়। সার-বীজ ডিলাররা ঠিকই তাদের উপকরণের দাম পেয়ে যায়, কিন্তু কৃষক কিছুই তার ঘরে তুলতে পারে না। সব খরচ মিটিয়ে তাকে অনেকটা খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়। তাই কৃষকের উত্পাদিত পণ্যে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই প্রমাণিত যে ক্ষুদ্র কৃষকের উত্পাদনের মাধ্যমেই খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব এবং একইসঙ্গে কৃষিকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকাও রক্ষা পাবে। বাংলাদেশ কি সেই পথে হাঁটছে? কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিশাল এই সেক্টরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও উল্লেখযোগ্য নজর নেই বলে বিস্তর অভিযোগ। মাঝেমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ পরিকল্পনা নেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয় না।

আমাদের দরকার কৃষকের টিকে থাকার ব্যবস্থা করা; তাহলেই কৃষি টিকবে, আর কৃষকও বাঁচবে।

ঢাকা