জামিন ও স্থগিতাদেশের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন বিচারপ্রার্থীরা

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৭

একটি ফৌজদারি মামলায় আত্মসমর্পণ করে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন জুবায়ের নামে এক ব্যক্তি। এরই মধ্যে ঐ জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধস্তন আদালত বন্ধ থাকায় শুধু জুবায়ের নন, এরকম শত শত ব্যক্তি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করতে পারছেন না। ফলে তারা উদ্বিগ্ন আবার কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়। শুধু আগাম জামিন নয়, বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় অধস্তন আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন রায় বা আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এসেছিলেন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী জনগণ। ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে আদালত। ঐ স্থগিতাদেশের মেয়াদ এরই মধ্যে অনেক মামলায় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সরকার ঘোষিত ছুটির কারণে সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থী জনগণ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে পারছেন না।

এমন পরিস্থিতিতে বিচারপ্রার্থীদের সমস্যার বিষয়টি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে অবহিত করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে বিচারপ্রার্থী জনগণের এ সমস্যাগুলো তুলে ধরেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে        প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেছেন।

গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার প্রথম দফায় সারাদেশে ১০ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। দ্বিতীয় দফায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ঐ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঐ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঐ ছুটির ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালতসমূহে ঐদিন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। ফলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালতের নিয়মিত সব বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও তা বৃদ্ধির জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না বিচারপ্রার্থী জনগণ। পাশাপাশি আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মামলায় জামিন লাভকারী ব্যক্তি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে যথাসময়ে নিয়মিত জামিনের আবেদন করতে পারছেন না। ফলে এক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত কারণে সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকায় এই সময়ে বিভিন্ন মামলায় প্রদত্ত অনেক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ যথা আগাম জামিন, স্থগিতাদেশ, নিষেধাজ্ঞা ও আত্মসমর্পণের তারিখ পার হয়ে যাচ্ছে ও যাবে। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমরা দেখা করেছি। উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি তার নজরে আছে এবং যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করা হবে। কোনো মামলায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আদালত খোলার পর আইনজীবীগণ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এছাড়া বিশেষ আইনের মামলায় আপিল, রিভিশন ইত্যাদি খোলার তারিখেই দায়ের করে তামাদি রক্ষার সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, বিশেষ আইনের মামলায় অধস্তন আদালতের রায় বা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিশন করার জন্য আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ রয়েছে। ফলে একজন বিচারপ্রার্থী জনগণকে ঐ সময়ের মধ্যেই উচ্চ আদালতে আপিল বা রিভিশন করতে হয়। এক্ষেত্রে তামাদি আইনে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।