ভারতে গিয়ে আটকা পড়েছেন ২ হাজার ৫০০ বাংলদেশি

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৮

নতুন করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভারতে ২১ দিনের লকডাউন চলছে। দেশটিতে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের যান (বাস, রেল, বিমান) চলাচল বন্ধ থাকবে। এ কারণে দেশটিতে আটকা পড়েছেন প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি। এর মধ্যে ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর ব্যাপক প্রসারের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সজাগ দৃষ্টি রাখছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক লোক চিকিত্সা, পর্যটন, শিক্ষাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি বছর ভারত ভ্রমণ করে। নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ মুহূর্তে বিভিন্ন কারণে ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। কোভিড-১৯ বিস্তার ঠেকাতে ভারত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ধরনের বিদেশি (প্রবাসী ভারতীয়সহ) ১৪ এপ্রিল দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবে না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভারত থেকেও কোনো বিদেশি নাগরিকের বহির্গমন নিরুত্সাহিত করছে। এছাড়া ভারতের আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও এ মুহূর্তে বন্ধ রয়েছে।              এ অবস্থায় বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ ভারতে বাংলাদেশের মিশনসমূহ বাংলাদেশিদের কল্যাণে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখছে। মিশনের কর্মকর্তারা আটকেপড়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে টেলিফোন, হটলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বাংলাদেশিরা আর্থিক বা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে, হাইকমিশন ও অন্য মিশনসমূহ তা সমাধানে সচেষ্ট আছে। পরিবেশ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভারতসহ অন্যান্য দেশে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, ভারতে আটকাপড়া বাংলাদেশিরা  যে যেখানে আছেন, সেখানেই থাকার পরামর্শ দিচ্ছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এক বিবৃতিতে হাইকমিশন ভারতে লকডাউন না ওঠা পর্যন্ত তাদের ধৈর্য ধরারও অনুরোধ করেছে। তবে একইসঙ্গে বলা হয়েছে, যদি কোনো একটি শহরে একসঙ্গে অনেক বাংলাদেশি আটকা পড়ে থাকেন এবং তারা নিজের খরচে ও কোয়ারেন্টাইনের শর্ত মেনে দেশে ফিরতে রাজি থাকেন, তাহলে তাদের ফেরানোর রাস্তা খোঁজা যেতে পারে, যদিও তাতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।

তবে চিকিত্সার প্রয়োজনে বা বেড়াতে গিয়ে ভারতে আটকাপড়া অনেক বাংলাদেশিই বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা যে কোনোভাবে দ্রুত দেশে ফিরতে চায়। কারণ ভারতে তাদের জন্য এখন প্রতিটা দিন কাটানো খুব মুশকিল হয়ে পড়ছে।