বাবার বাড়ি থেকে অসুস্থ হয়েই বন্দরে মারা যান করোনায় আক্রান্ত নারী!

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৬

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের রসুলবাগ এলাকায় করোনায় মারা যাওয়া নারী বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে যাননি, প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বন্দরে মারা যাওয়ার আগে ঐ নারী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৭নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায়। শুক্রবার দুপুরে সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, নিহতের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ছিল। তিনি কোনো প্রবাসীর সংস্পর্শে না এসে থাকলে এটি লোকাল ট্রান্সমিশন হতে পারে। তবে আমরা এখনো নিশ্চিত নই কীভাবে তার শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঐ নারীকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া একজন ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ড বয়সহ ৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তবে তারা কেউ অসুস্থ নয়। এছাড়াও পাইকপাড়া এলাকায় ঐ নারীর বাড়ির বাবা-মাসহ পরিবারের সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইইডিসিআরের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

গত ৩০ মার্চ বন্দরের রসুলবাগ এলাকায় ৪৫ বছর বয়সি ঐ নারী ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর। ২ এপ্রিল রিপোর্ট আসে ঐ নারীর দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ছিল। পরবর্তীতে নারীর বাড়ি সংলগ্ন ১০০ বাড়ি লকডাউন করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় আইইডিসিআরের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ দিকে স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন মিয়া জানান, ঐ নারীর বাবার বাড়ি শহরের পাইকপাড়া এলাকায়। সেখানে তার এক আত্মীয় ইতালি থেকে এসেছেন। সেখান থেকে ফিরে আসার পরে প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তিনি হাঁপানির রোগী ছিলেন ও একবার স্ট্রোকও করেছেন। সে জন্য পরিবারের কেউ তেমন গুরুত্ব দেয়নি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলে ডাক্তার ঐ নারীকে মৃত ঘোষণা করেন।’ বন্দর ইউএনও শুক্লা সরকার জানান, ঐ নারীর পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের কেউ বিদেশ থেকে আসেননি। এমনকি এলাকায় কেউ বিদেশফেরতও নেই। ফলে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি তিনি কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপর দিকে, বন্দরে লকডাউন থাকা রসুলবাগ এলাকায় প্রতিটি বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান এ খাদ্যসামগ্রী এলাকাবাসীর জন্য পাঠান। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ঘরে ১০ কেজি করে চাল পাঠিয়েছেন তিনি।