করোনা সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনায় রোগীদের চিকিত্সা, সংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টাইন, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ বিতরণ ও দুর্নীতি রোধসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্দেশনাগুলো হলো ১) করোনা ভাইরাস সম্পর্কে চিকিত্সা ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি এ সম্পর্কিত সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। ২) লুকোচুরি না করে উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। ৩) পিপিই সকলের পরার দরকার নেই। চিকিত্সা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য পিপিই নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবহূত পিপিই, মাস্কসহ সকল চিকিত্সা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ৪) কোভিড-১৯ রোগের চিকিত্সায় নিয়োজিত সকল চিকিত্সক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। ৫) যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে আছেন, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে। ৬) নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। ৭) নদীবেষ্টিত জেলাসমূহে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে। ৮) অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিত্সাসেবা অব্যাহত রাখতে হবে। ৯) পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। ১০) আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। ১১) ত্রাণকাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। ১২) খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করতে হবে। ১৩) সোশ্যাল সেফটিনেস কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

১৪) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নজর দিতে হবে। ১৫) খাদ্য উত্পাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। ১৬) সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। ১৭) দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ১৮) জনস্বার্থে বাংলা নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে ঘরে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নববর্ষ উদ্যাপন করতে হবে। ১৯) প্রশাসন সকলকে নিয়ে কাজ করবে। ২০) সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ২১) জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে দুঃস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করবেন। ২২) সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ নজর রাখাসহ ত্রাণ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। ২৩) প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২৪) দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সকল সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। ২৫) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উত্পাদন, সরবরাহ ও নিয়মিত বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। ২৬) আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করবেন না। ২৭) কৃষকগণ নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। ২৮) সকল শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন। ২৯) শিল্প মালিকগণ শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উত্পাদন অব্যাহত রাখবেন। ৩০) গণমাধ্যমকর্মীরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ৩১) গুজব রটানো বন্ধ করতে হবে।