ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৪ দলের আবেদন

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩০

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা সংক্রমণের প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এতে অনেকগুলো ছোটো ব্যবসাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যাবে। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোনোভাবে দেশের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করা যায় কি না তা বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশ্বব্যাপী এই মহাদুর্যোগের সময় আমাদের জাতিগতভাবে নিজস্ব শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তার পরও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া যায় কি না আমাদের সেই আবেদন থাকবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি করোনায় গার্মেন্টস সেক্টরে ক্ষতিপূরণের স্বার্থে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যা স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। যেহেতু তাদের অনেক বিদেশি অর্ডার স্থগিত কিংবা বাতিল হয়েছে তাই তারা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তবে এদেশে হাজার হাজার ছোটো দোকানদার করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দোকান বন্ধ রেখেছে। বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন-জামাকাপড়, ইলেকট্রনিক্স, বুটিকসসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িতরা, যাদের ব্যবসার আয়ের ওপর শুধু মালিক নয়, কর্মচারীদের জীবিকাও নির্ভরশীল। তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। এর সঙ্গে তাঁত শিল্পের ভাগ্য জড়িত। এ কাজটি তারা বন্ধ রেখেছে। এমনকি এবার পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে গেছে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে থাকে। আসন্ন ঈদে দোকানদারদের ব্যবসাও অনিশ্চিত। তাই এদেরকে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা না দিলে হাজার হাজার দোকান মালিক কর্মচারীসহ লাখ লাখ শ্রমিক প্রচণ্ড দুঃসময়ের সম্মুখীন হচ্ছে এবং হবে। এছাড়া দেশে হাঁস-মুরগি ও গরুর খামার গড়ে উঠেছে। যার মাধ্যমে অনেকের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে অর্থনীতিতে বিরাট বিকাশ ঘটেছে। এরাও আজ প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খামারিদের দুধের দামও কমে গেছে। এ বিষয়টি নিশ্চয় আমার দেশের সফল, মমতাময়ী ও জনবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে রয়েছে। এই শ্রেণির মানুষগুলোর দুঃখ-কষ্ট প্রধানমন্ত্রী অনুধাবন করে থাকেন। তাই দুর্যোগময়কালে এই বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন। ১৪ দলের পক্ষ থেকে এটা আমাদের অনুরোধ।