স্বল্প খরচে কৃষিবান্ধব সৌর আলোক ফাঁদ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩১

 আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

দিনে চার্জ হয়, রাতে জ্বলে ওঠে। এই পদ্ধতির নাম ‘সৌর আলোক ফাঁদ’। প্রথমবারের মতো উপজেলার ফতেহপুরে সৌর আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, সৌর আলোক ফাঁদ প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বালিয়ে সকালে বন্ধ করতে হয়। এই প্রচলিত আলোক ফাঁদ স্থাপনে শ্রম ও খরচ বেশি হয় এবং কার্যকারিতা ও অপেক্ষাকৃত কম।

উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটি মাঠে একবার স্থাপন করলে দীর্ঘদিন টিকে থাকে। সম্পূর্ণ প্রযুক্তিটি একটি সৌর প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি কন্ট্রোলার,একটি বৈদ্যুতিক বাতি, কেরোসিনমিশ্রিত পানি ও পাত্র এবং একটি ধাতব লৌহ দণ্ড সমন্বয়ে তৈরি। ছোটো আকারের পাতলা, সহজে বহনযোগ্য এ যন্ত্রটি তৈরিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ পড়ে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবদুল কাদির জানান, চলতি বোরো মৌসুমে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩০টি সৌর আলোক ফাঁদ বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের নিয়ে মাঠে সৌর আলোক ফাঁদ স্থাপন করেন । অতি অল্প সময় বিপুল সংখ্যক পোকামাকড় এ ফাঁদে আকৃষ্ট হয় এবং উপস্থিত কৃষকরা এ আলোক ফাঁদ স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি আরো জানান, কৃষকের ফসল সুরক্ষায় উদ্ভাবিত এটি একটি নতুন প্রযুক্তির সংযোজন। আলোক ফাঁদ একটি জনপ্রিয়, সহজ ও পরিবেশবান্ধব কীটপতঙ্গ শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ ও দমন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে ধানের ক্ষতিকারক পোকামাকড় , হলুদ মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা উপস্থিতি নিরূপণ করে দমন কৌশল গ্রহণ করা যায়।