বাদশাহর জন্য শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল:জ্যাকুলিন

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২০:১০

বিনোদন ডেস্ক

সম্প্রতি পাঞ্জাবি গায়ক বাদশাহ তার ‘গেন্দাফুল’ গানটি নিয়ে সমালোচিত হয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মুহূর্তে ভাইরাল গেন্দাফুল। যে র্যাপের পাঞ্চলাইন ‘বড়লোকের বিটি লো’। বাংলা লোকগীতিকে নিজের র্যাপে ব্যবহার করে শ্রোতাদের কাছে নিয়ে এসেছেন বাদশা। তবে ‘গেন্দাফুল’-এর জন্য তাকে যথেষ্ট বিড়ম্বনাতেও পড়তে হয়েছে। কারণ প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। লোকগীতিটি যার সৃষ্টি, সেই রতন কাহারের নাম কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মঙ্গলবার অর্থাত্ ৩১ মার্চ ‘গেন্দাফুল’ গান এবং বাংলার রতন কাহার প্রসঙ্গে মুখ খুলতে বাধ্য হন বাদশা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বক্তব্য ছিল এই রকম, ‘আমি ওই গান রচয়িতার নাম খোঁজার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খুঁজে পাইনি। ২৬ মার্চ আমি জেনেছি, রতন কাহারের নাম। আমি জানি উনি একজন মহান শিল্পী। শুনেছি, ওর অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নয়। আমি ওকে সম্মান দিয়ে সাহায্য করতে চাই।’ তিনি জানিয়েছেন, বড় লোকের বিটি লোর ক্ষেত্রেও তার কোনো খারাপ অভিসন্ধি ছিল না। তিনি বলেন, ‘লকডাউন না থাকলে আমি রতন কাহারের বাড়ি চলে যেতাম।’

এক কুমারী মায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রতন কাহারের। তার ঘটনা নিয়েই গান বাঁধেন শিল্পী। এরপর ১৯৭২ সালে আকাশবাণীতে গানটি রেকর্ড করেছিলেন তিনি। পরে ১৯৭৬ সালে সেই গান রেকর্ড করে বিপুল জনপ্রিয়তা পান স্বপ্না চক্রবর্তী।

সেই গানের লাইন ব্যবহার করে বাদশার মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশ পেতেই হইচই শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দেন বীরভূমের বিশিষ্ট শিল্পী অতনু বর্মন। তিনি বলেন, ‘বাদশার টিমের অন্যতম কর্তা দীপঙ্কর রায় ফোন করে বলেন, ‘তারা শিল্পীকে সম্মান দিতে রাজি। তবে প্রমাণ চাই। সেই মতো বেশকিছু তথ্য আমি ওকে পাঠাই।’ বাদশা অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বয়ানে গানটি যে রতন কাহারের, সেই প্রমাণ চেয়েছিলেন। কিন্তু তার সহযোগী দীপঙ্কর রায় এ দিন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি। তার প্রেক্ষিতেই রতন বাবুকে স্বীকৃতি দিতে চাই। লকডাউন কেটে গেলে তা আরও পরিষ্কার হবে। বাদশা প্রাথমিকভাবে জানতো না। তাই প্রমাণ চেয়েছিল।’ এই গানটির মডেল হয়েছে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। বাদশাহর লাইভের পর গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘বাদশাহর জন্য শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল। এটি একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আশা করি সেটির সমাধান এখন হয়েছে।’