শিগিগরই ফিরছে না ইংলিশ লিগ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৩

বেতন কমতে পারে ক্লাবগুলোর

 স্পোর্টস ডেস্ক

করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত স্থগিত থাকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিগিগরই মাঠে ফিরছে না, ঘোষণা লিগ কর্তৃপক্ষের। লিগ বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়া ক্লাবগুলো অর্থনৈতিক মন্দা পুষিয়ে নিতে খেলোয়াড়দেরকে বেতন কম নেওয়ার জন্যে আলোচনা করবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষের সভায়।

ব্যাপারটা অনেকটা অনুমতিই ছিল। গত ১৩ মার্চ আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতার করোনাক্রান্ত হওয়ার পর স্থগিত হওয়া প্রিমিয়ার লিগ ২ এপ্রিলকে সম্ভাব্য ফেরার তারিখ ঘোষণা করেছিল। এরপর আরেক দফা পিছিয়ে ৩০ এপ্রিলে নিয়ে যাওয়া হয় ফেরার সময়টা। ইংল্যান্ডে করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে এবার এপ্রিলের শেষেও লিগের ফেরাকে অসম্ভব বলেছে লিগ কর্তৃপক্ষ।

গত শুক্রবার প্রিমিয়ার লিগের কার্যনির্বাহীদের ভিডিও কনফারেন্স সভায় এ ব্যাপারে বিশদ আলোচনা হয়। সেটি শেষে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিমিয়ার লিগ যে মে মাসের শুরুতে মাঠে ফিরবে না ব্যাপারটা স্বীকৃত ছিল। নিরাপদ ও যথোপযুক্ত সময় হলেই কেবল ২০১৯-২০ মৌসুম আবারও মাঠে গড়াবে।’

তবে ফেরার দিনক্ষণ নিশ্চিত না হলেও, এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে লিগটি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে আমরা মাঠে ফেরার ব্যাপারটা সব অংশীদারদেরকে সঙ্গে নিয়ে পর্যালোচনা করছি। আমরা এই চ্যালেঞ্জের মুহূর্তে একসঙ্গে কাজ করছি।’

তবে যখনই মাঠে ফেরা হবে প্রিমিয়ার লিগের, সরকার ও মেডিক্যাল নির্দেশনার পূর্ণ সমর্থন নিয়েই ফিরবে বলে জানানো হয়, ‘যাই হোক, যে কোনো প্রকারের খেলা মাঠে ফেরার সময়ে সরকারের পূর্ণ সমর্থন আর মেডিক্যাল নির্দেশনার অনুমতি নিয়েই ফিরবে।’

প্রিমিয়ার লিগের এই সভায় মাঠের খেলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। জানা যায়, ক্লাবগুলো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেতন কম নেওয়ার জন্যে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করবে। নিদেনপক্ষে ৩০ শতাংশ বেতন কম নেওয়ার অনুরোধ করবে ক্লাবগুলো।

ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার লিগ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, সব ক্লাব এ ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছে।

এর পাশাপাশি ইংলিশ ফুটবল লিগ ও ন্যাশনাল লিগের ক্লাবগুলোকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড অগ্রিম দেবে প্রিমিয়ার লিগ। সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থাকেও অনুদান হিসেবে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে বলে জানা গেছে।

বৈশ্বিক এই মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক জটিলতা সামলাতে ইউরোপের অনেক শীর্ষ ক্লাবই  খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর কিছু পরে প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দেরও বেতন কম নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক।