করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকার জন্য সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করার জন্য। করোনার চিকিত্সা না থাকায় ঘরে বসে থাকাই আপাতত এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকেরা। কিন্তু কোনো কোনো কর্মস্থল আজ রবিবার খুলে যাবে। তাই এসব স্থানে কাজ করা হাজার হাজার লোক ঢাকায় আসার জন্য দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ভিড় করেন গতকাল শনিবার। এতে করোনা ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি মো. মাহ্ফুজুর রহমান জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে শনিবার। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশাযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে এসব যাত্রী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া ঘাটে নৌপরিবহন লঞ্চ বন্ধ থাকলেও নৌরুটে চলাচলরত ফেরিতে যাত্রীদের চাপ চোখে পড়ার মতো ছিল।
করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা থাকলেও তা উপেক্ষা করে কর্মমুখী মানুষ ফিরতে শুরু করেছে ঢাকার উদ্দেশে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দূরের কথা, ফেরিতে গাড়ির চেয়ে সাধারণ যাত্রীর সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। জানা গেছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণায় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোটো-বড়ো ১৫টি ফেরির মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য ছোটো-বড়ো পাঁচটি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থানরত ফেরিগুলোতে কাঁচামালবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকাগামী ট্রাকগুলোতে গাদাগাদি করে যাত্রীরা ঢাকায় ফিরছে। ফেরিগুলোতে যানবাহনের চেয়ে যাত্রীদের ভিড় বেশি দেখা যায়। চলন্ত ফেরিতে লাফিয়ে উঠতে দেখা যায় যাত্রীদের। অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহন করার কথা থাকলেও ভেতরে যাত্রী নিয়েই যাচ্ছে ঢাকায়। ফেরির ছাদে, হোটেলে ও নিচে ছিল ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে গতকাল ছিল মানুষের ভিড়। ঠাসাঠাসি করে পার হয় হাজার হাজার মানুষ। দক্ষিণাঞ্চল থেকে লোকজন এখন ঢাকার দিকে যাচ্ছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হচ্ছে। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় একজনের গায়ের ওপর অন্যজনের গা লেগে যাচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিতে করে হাজার হাজার লোক পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। ঢাকামুখী যাত্রীর চাপই ছিল বেশি। তারপর বাস না থাকায় বিভিন্ন রকম যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এর মধ্যে নসিমন, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের ছোটো ছোটো যানবাহনে যাত্রীরা ঢাকার উদ্দেশে ছুটছে। কিছু কিছু যানবাহনে ঠাসাঠাসি করে যাত্রীদের ঢাকায় যেতে দেখা যায়। মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জি এম আশরাফুল কবির জানান, লোকজন ফেরিতে করেই পার হচ্ছে। এই চাপ সকালের দিকে আরো বেশি ছিল।
বরিশাল অফিস জানায়, বরিশালের নথুল্লাবাদে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস বন্ধ থাকায় সব বাধা উপেক্ষা করে বিকল্প পথে ছুটছে মানুষ। কেবল বরিশাল নগরীতে নয়, জেলার অনান্য উপজেলায় থাকা গার্মেন্টস শ্রমিকেরা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন। ঢাকাগামী একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার ছুটি ঘোষণা করার পর তারা দেশের বাড়িতে ফিরেছিলেন। তবে ৫ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস ও কতিপয় বেসরকারি কোম্পানি তাদের অফিস খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এখন চাকরি টিকিয়ে রাখতে তাদের কষ্ট করে পায়ে হেঁটে, ট্রাকে চেপে আবার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলযোগে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
