ওপেক বৈঠকের খবরে দাম বাড়ল জ্বালানি তেলের

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৮

তেল উত্তোলন কমিয়ে আনতে রাশিয়া সম্মত হওয়ায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে ওপেক। আর এতেই বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। কিন্তু তেল উত্তোলন না কমায় এর দাম হু হু করে কমতে থাকে। ওপেক উত্তোলন কমিয়ে দাম ঠিক রাখতে চাইলেও রাশিয়া এতে রাজি না হওয়ায় তেলের দাম সম্প্রতি ১৮ বছরের মধ্যে রেকর্ড কমে যায়। সৌদি আরব পালটা পদক্ষেপ হিসেবে উত্তোলন আরো বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ফলে শুরু হয় তেল নিয়ে ‘দাম যুদ্ধ’। আগামী সোমবার রাশিয়াসহ অন্য তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আহ্বান করেছে উপসাগরীয় তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক। সৌদি আরবের আহ্বানে এই বৈঠকটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। সিএনএন এর এক সংবাদে উল্লেখ করা          হয়েছে, জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ফলে তেল নিয়ে সৌদি ও রাশিয়ার মধ্যে ‘দাম যুদ্ধ’ নিয়ে উত্তেজনা কমে আসবে। ওপেক জোটের বাইরে তেল উত্তোলনকারী বড়ো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং মেক্সিকোকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। আর এই সংবাদে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম এক দিনের ব্যবধানে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ৩২ ডলারের ওপরে উঠেছে। সৌদি ও রাশিয়ার দাম যুদ্ধের প্রভাবে গত সপ্তাহে সাড়ে ২২ ডলারে তেলের দাম নেমে আসে। উপসাগরীয় যুদ্ধের পর গত ১৮ বছরে এত নিচে নামেনি তেলের দাম। চাহিদা কমে যাওয়ায় উত্তোলন কমিয়ে দামের ভারসাম্য বজায় রাখতে চায় ওপেক। তেলের দর যদি ৩০ ডলারের নিচে নেমে যায় সেক্ষেত্রে বড়ো বড়ো তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে স্বাগত জানিয়েছে উল্লেখ করেছেন, আশা করছি সৌদি আরব ও রাশিয়া তেল উত্তোলন কমিয়ে আনবে। তিনি আশা করেন, সৌদি আরব ও রাশিয়া দৈনিক তেল উত্তোলন এক থেকে দেড় কোটি ব্যারেল কমিয়ে আনবে। উল্লেখ্য, ওপেক দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি তেল উত্তোলন করে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে এসেছে। বাড়তি তেল মজুত করার জন্য আর জায়গাও নেই। ফলে তেলের দর কমছে ব্যাপক হারে।