প্রেমিকার বাড়ির উঠানে গর্তে মিলল নিখোঁজ প্রেমিকের লাশ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৩

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজের এক মাস পর শুক্রবার রাত ১টার দিকে প্রেমিকার বাড়ির উঠানের টিউবওয়েলের পাশের গর্ত থেকে প্রেমিকের গলাকাটা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামের কাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশ ছিলেন। পার্শ্ববর্তী চৌগাছি গ্রামের উকিল বিশ্বাসের ছেলে পিকুল বিশ্বাস (৩৫) এ সুযোগে মোশারফের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার (২৮) সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বছরখানেক আগে মোশারফ দেশে ফিরে আসেন। তবে তার স্ত্রীর সঙ্গে পিকুলের পরকীয়া সম্পর্ক থেকেই যায়। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু তারপরেও দুই জনের পরকীয়া প্রেম চলতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে    স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছায়। এক পর্যায়ে স্বামী মোশারফ পিকুলকে তার সামনে হাজির করার জন্য স্ত্রীকে শর্ত দেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ রাতে স্বামী বাড়িতে নেই বলে সুকৌশলে রাজিয়া প্রেমিক পিকুলকে তার বাড়িতে আসতে বলে। বাড়িতে আসার পর রাজিয়া স্বামীর কথা মতো পিকুলকে দুধের সঙ্গে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পিকুল ঘুমিয়ে পড়লে রাজিয়া তার স্বামীকে ডেকে এনে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় ধারাল দা দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। এরপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উঠানের টিউবওয়েলের পাশে খুঁড়ে রাখা ১২ ফুট গভীর গর্তে বিছানাপত্র ও তার ব্যবহূত মোবাইল সেটসহ পিকুলের মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

৩ মার্চ দুপুর পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে পিকুলের মোবাইলে যোগাযোগ ছিল। এরপর থেকে তার পরিবার তার কোনো প্রকার খোঁজ না পেয়ে পিকুলের ভায়রা মামুনুর রশীদ গত ৭ মার্চ বাদী হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় জিডি করেন।

জিডির সূত্র ধরে পিকুলের মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিং করে পুলিশ রাজিয়া ও তার স্বামী মোশারফকে আটক করে। আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পিকুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মাগুরা পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াছিন কবীরের উপস্থিতিতে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে ১২ ফুট মাটির নিচ থেকে পিকুলের মরদেহ উত্তোলন করেন। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মাগুরা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

মাগুরা পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান জানান, পিকুলের মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিং করে ঘটনায় জড়িত রাজিয়া ও তার স্বামী মোশারফকে আটক করা হয়। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।