নিজেকে ডিবির সোর্স বলে পরিচয় দিতেন। চার বছর ধরে থাকেন মামার বাড়িতে। এরই মধ্যে তিনি তৈরি করেছেন বিশাল অট্টালিকা। সেখানে ছিল সুরুঙ্গ পথ। যে সুরঙ্গ দিয়ে অনায়াসেই নদী দিয়ে পালিয়ে যেতেন। তিনি মূলত ইয়াবা কারবারি ও অপহরণকারী। সুন্দরী মেয়েদের আনাগোনা ছিল তার আস্তানায়। আর ভেসে আসতো অপহূত শিশু কান্নার শব্দ। এতে অতিষ্ঠ ছিলেন এলাকাবাসী। অবশেষে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর তিন-চার মসজিদের মুসল্লিরা মিলে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন সেই আস্তানা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড আখালিয়া নদীর পাড় এলাকায় ছিল ইয়াবা কারবারি ও অপহরণকারী হযরতের সেই আস্তানা। এলাকাবাসী জানান, একই উপজেলার বরুকা নয়ানবাড়ী এলাকার আ. কদ্দুছের ছেলে হযরত আলী (৪০) নানার বাড়ির ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে চার-পাঁচ বছর আগে বাড়ি নির্মাণ করে এলাকায় বসবাস শুরু করেন। গত সপ্তাহে কুশমাইল ইউনিয়নের বুড়াইপাড় এলাকার ধান ব্যবসায়ী কান্দুর ছেলে হীরাকে মুক্তিপণের জন্য আটক করে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেন। দু’দিন পর হযরতের স্ত্রীর সহযোগিতায় হীরা প্রাণে বেঁচে যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে তারা হযরতের বাড়ি ভাঙচুর করে জিনিসপত্র আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। তবে এসময় হযরত পালিয়ে যায়।
ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান, হযরত আলী মাদক বিক্রেতা। থানায় তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। অতিষ্ঠ এলাকাবাসী তার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
