করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য মহাদুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারকে ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি, যা দেশের জিডিপির ৩ ভাগ। এই প্রণোদনা প্যাকেজের ৬১ হাজার কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি খাতে, ১৮ হাজার কোটি টাকা মধ্যমেয়াদি খাতে এবং ৮ হাজার কোটি টাকা অদৃশ্য ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অবিলম্বে দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদদের সমন্বয়ে একটি আপত্কালীন অর্থনৈতিক টাস্কফোর্স গঠনেরও দাবি করেছে বিএনপি।
গতকাল শনিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে এই প্যাকেজ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের সহায়তায় এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের গার্মেন্টসসহ রপ্তানি শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, তা যথেষ্ট নয়। প্রস্তাবনায় যা আছে—
দিনমজুরদের জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা :‘দিন আনে দিন খায়’ এমন সব শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা, ভ্যানচালক, হকার, পরিবহন শ্রমিকদের প্রাথমিকভাবে এপ্রিল-মে-জুন এই তিন মাসের জন্য জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করে অবিলম্বে ঘরে ঘরে গিয়ে নগদ অর্থ দিতে হবে।
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য হাজার কোটি টাকা :ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে বাধ্য হয়ে কয়েক লাখ প্রবাসী শ্রমিক বাংলাদেশে ফিরেছেন। অনেকেই শূন্য হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। এদের চিহ্নিত করে প্রত্যেক প্রবাসীকে তিন মাসের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা আপত্কালীন আর্থিক সাপোর্ট প্রদান করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা :স্বাস্থ্য খাত এবং যারা করোনা মোকাবিলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত, সেসব হাসপাতাল ও সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে বিএনপি। করোনা মোকাবিলার সঙ্গে যারা যুক্ত, সেই সব ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর জীবন ঝুঁকির বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে তাদের স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করতে হবে।
বয়স্ক ও বিধবাদের ২ হাজার কোটি টাকা :বয়স্ক নারী, বিধবা, প্রতিবন্ধী, ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের আগামী তিন মাসের জন্য প্রতি মাসে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ বিতরণ করতে হবে।
মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ :ঋণের সুদ মওকুফ করতে হবে। ই?এমআই (ঋণের নিয়মিত কিস্তি) পরিশোধ তিন মাসের জন্য স্থগিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখনই ব্যাংক খাতে তারল্য বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটে আস্থা বৃদ্ধি করতে হবে।
কঠোর কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন :সরকারের ব্যয় সংযত করতে হবে। অপচয় বন্ধ করে সেই অর্থ দিয়ে রপ্তানিমুখী শিল্প, ওষুধশিল্প এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিল্পকে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। বিশেষ করে করনীতির আওতায় করপোরেট করের হার কমানো, আপত্কালীন কর মওকুফ করা এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাঠ থেকে অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স আদায় বন্ধ করতে হবে।
কৃষিতে ৫ হাজার কোটি টাকা :কৃষিক্ষেত্রে সহায়তা জোরদার করতে হবে। আগামী মৌসুমে স্থানীয় বাজার থেকে কৃষক পর্যায়ে পর্যাপ্ত খাদ্য ক্রয় করে মজুত করতে হবে। কারণ বিশ্ব মহামারির কারণে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো খাদ্য রপ্তানি করতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ খাতে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে।
সাংবাদিকদের দাবি বিবেচনা :সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে যে আর্থিক প্যাকেজ পেশ করা হয়েছে, তার অধিকাংশ যুক্তিসংগত। দেশের এই ক্রান্তিকালে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সাংবাদিকদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবি সুবিবেচনা করতে হবে।
