প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বরাদ্দ চায় রিহ্যাব

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক ক্ষতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রিয়েল এস্টেট খাত। কারণ, এ খাতের সঙ্গে অনেকগুলো লিংকেজ শিল্প জড়িত। আবাসন শিল্পের সঙ্গে ৩৫ লাখ কর্মসংস্থান জড়িত। এখানে দৈনন্দিন ভিত্তিতে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করে। আবাসনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যান্য খাতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ফলে অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এমতাবস্থায় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবাসন খাতের জন্য খুবই জরুরি বলে মনে করছে আবাসন খাতের এ ব্যবসায়ীদের সংগঠন। এ বিষয়ে রিহ্যাবের বোর্ড অব ডিরেক্টর্স কয়েকটি দাবি করেছে। সেগুলো হলো—অবিলম্বে আবাসন শিল্পে বিনিয়োগকারীদের তাত্ক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে রিয়েল এস্টেট খাতে বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান ঋণের সুদ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মওকুফ ও সহজ শর্তে পুনঃতপশিল করা জরুরি বলে মনে করছে রিহ্যাব। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে আবাসন শিল্পে ২০০৭-০৮ সালের ন্যায় হাউজিং রি-ফিন্যান্সিং স্কিম পুনঃপ্রচলন অতি আবশ্যক বলে মনে করছে সংগঠনটি। এছাড়া রিহ্যাব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই এবং এনবিআরের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বাংলাদেশের আবাসন শিল্পের সমস্যা সমাধান এবং সার্বিক উন্নয়নের নিমিত্তে গৃহীত সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।

বোর্ড অব ডাইরেস্টরসের পক্ষে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন গতকাল। সেখানে তিনি বলেন, রিহ্যাবের সুপারিকৃত এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রিয়েল এস্টেট খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে। অন্যান্য লিংকেজ শিল্প আবার গতিশীল হবে এবং বিস্তার  লাভ করবে। ফলে অর্থনীতি স্বাবলম্বী হবে। করোনা ভাইরাস সংকট কেটে যাবার সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধিও গতিশীল হবে।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে প্রেক্ষাপটে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গতকাল প্রধানমন্ত্রী ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।