করোনার প্রভাব যশোরের পোলট্রি শিল্পে

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৫

প্রতিদিন মারা পড়ছে ২ লাখ বাচ্চা

যশোর অফিস

ফ্রি দিলেও পোলট্রি মুরগির বাচ্চা নিচ্ছেন না খামারিরা। হ্যাচারি থেকে খামারে স্থানান্তরিত না হওয়ায় ৩২ টাকা খরচে উত্পাদিত এ রকম প্রায় ২ লাখ পোলট্রি মুরগির বাচ্চা মারা পড়ছে প্রতিদিন। পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারি ও ফিড উত্পাদনকারীরাও লোকসানের বোঝা বইছেন। এ শিল্প বন্ধের আশঙ্কায় দিন গুনছেন জড়িত ১ হাজার খামারের ৫ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার। যশোরাঞ্চলে আফিল হ্যাচারি, কাজী হ্যাচারিসহ ছোটো-বড়ো পাঁচটি হ্যাচারিতে প্রতিদিন ৪ লাখ বাচ্চা উত্পাদিত হয়।

আফিল এগ্রো লিমিটেড ফার্মের টেকনিক্যাল ম্যানেজার তোফায়েল আহমেদ শনিবার জানান, প্রতিদিন বাচ্চা উত্পাদনের জন্য ২১ দিনের ডিম ইনকিউবেটর মেশিনে রাখতে হয়। এক দিন বয়সি বাচ্চা বিক্রি করা হয়। বাচ্চা উত্পাদন বন্ধ করতে হলে কমপক্ষে ২১ দিন অপেক্ষা করতে হয়। আবার উত্পাদন প্রক্রিয়া একবার বন্ধ করলে পুনরায় চালু অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে হ্যাচারি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রতিষ্ঠানটি শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়বে।

পোলট্রি শিল্পের বিপণন কোম্পানি তামিম মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) খন্দকার ইদ্রিস হাসান জানান, এক দিন বয়সি প্রতিটি বাচ্চা উত্পাদন খরচ ৩২ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক টাকারও কম। শুধু বাচ্চা নয়, লেয়ার মুরগির ডিম ও পোলট্রি ফিডেও এর প্রভাব পড়েছে। এ অঞ্চলে কয়েকটি ফিড মিলে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টন ফিড উত্পাদিত হয়। চাহিদা কমে যাওয়ায় ফিডের বিকিকিনিও কমে গেছে। তামিম মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপব্যবস্থাপক (ব্রয়লার) আব্দুল মুকিত জানান, যশোরাঞ্চলের ১ হাজার খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উত্পাদিত হয়। এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উত্পাদনে খরচ হয় ১১০ টাকা। বর্তমানে বাজার পড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারও পড়তির দিকে বলে জানান তিনি। এদিকে, আফিল এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু শনিবার বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ পোলট্রি মুরগির বাচ্চা মারা পড়ছে। লোকসানে ব্যবসা বন্ধের অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম মোল্লা জানান, করোনার প্রভাবে যশোরাঞ্চলে পোলট্রি শিল্পে আঘাত পড়েছে বলে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, পোলট্রির মাংস ও ডিম খেলে কোনো ক্ষতি নেই। বরং উপকার। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।