বাগেরহাটে সামাজিক দূরত্ব মানছে না অধিকাংশ মানুষ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৫

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বাড়াতে প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ কাজে আসছে না। শহরের মানুষ কিছুটা মানলেও গ্রামের মানুষ মোটেই তা মানছে না। দিনের বেলাতে মোড়ে, হাটবাজারে ভিড় না থাকলেও সন্ধ্যায় ভিড় বাড়ছে এবং তা চলছে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত। জেলা প্রশাসন বা কোনো বেসরকারি সংগঠন সহায়তা দিতে আসলে সেখানে সামাজিক দূরত্ব না মেনে সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন। 

এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে। গ্রামের মানুষ যেভাবে ঘর ছেড়ে বাড়ির বাইরে আসছে তাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কতটা রোধ করা যাবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাগেরহাটের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, মোড় ও হাটবাজারের জনসমাগম কমাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত দুই দিন সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাগেরহাটের ৯ উপজেলায় অধিকাংশ এলাকার একই চিত্র পাওয়া গেছে।

সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঘরবন্দি রাখতে শুরুতেই বাগেরহাটের প্রশাসনসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আহাদ উদ্দীন হায়দার বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্বের বিকল্প নেই। বাগেরহাটে অনেক এলাকায় সামাজিক দূরত্ব মানুষ মানছেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাগেরহাটের বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে। সবাইকে আরো সচেতন করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, বাগেরহাটে ভারতসহ ৩৮টি দেশের ৪ হাজারের অধিক মানুষ সম্প্রতি বাগেরহাটে ফেরেন। ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তাদের মধ্যে আমরা ১ হাজার ৫১৭ জনকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে ১ হাজার ২১৮ জনের শেষ হয়েছে। বাকিরা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এই এপ্রিল মাসের প্রথম ১০ দিন ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে ঝুঁকির সময়। এই সময়টা সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যার যার বাড়িতে অবস্থান করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাগেরহাটের মানুষকে সামাজিক দূরত্ব ও ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। নিজেরা যদি সচেতন না হন তাহলে চলবে কী করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের মাঠে কাজ করা একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বাগেরহাট শহরের মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। তবে গ্রামের মানুষ দিনের বেলায় বাড়িতে থাকলেও বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে মোড়ে বা বাজারে যাচ্ছেন। সেখানে ভিড় করে গল্প করছেন চা পান করছেন। সামাজিক দূরত্বও মানছেন না। তবে এই মানুষের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষণীয়, তা হলো ছেলে বুড়ো সবাই মুখে মাস্ক পরে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন।