এম এ আলআমিন
করোনা ভাইরাসের এপিসেন্টার প্রথমে চীনের উহান হয়ে ইতালি, স্পেন হয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রে সরে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনবসতিপূর্ণ নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলো এখন করোনা রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যান্য অঙ্গরাজ্য ও শহর থেকে ডাক্তার ও নার্সরা সেবা দেয়ার জন্য নিউ ইয়র্ক যেতে শুরু করেছেন। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয়, করোনা ভাইরাস এখনো পিক পয়েন্টে পৌঁছেনি। আগামী দিনগুলোতে অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।
মহামারি প্রকট আকার ধারণ করার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। যখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কেবল চীনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না সে অবস্থায় আরেকটু আগে থেকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেয়া যেত। তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো চীনের প্রতিবেশীগুলোর অবস্থা এ দিক দিয়ে ভালো। এসব দেশে করোনার বিস্তার ঘটলেও তা তুলনামূলকভাবে কম।
তাইওয়ানে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২১ জানুয়ারি। কিন্তু ১ এপ্রিল পর্যন্ত দ্বীপটিতে মোট ধরা পড়া সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৩২৯ এবং এতে মারা যায় পাঁচ জন। তাইওয়ান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচওর সদস্য নয়। ডব্লিউএইচওর নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোই কেবল তাদের সদস্য হতে পারবে। তাইওয়ানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে জাতিসংঘ এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ডব্লিউএইচও তাই তাইওয়ানকে সদস্য করেনি। এ সত্ত্বেও তাইওয়ান যখনই চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা বিস্তারের কথা জানার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসে। চীন থেকে তাইওয়ানের দূরত্ব ১০০ মাইল।
চীন থেকে প্রতিদিনই প্রচুর পর্যটক যায় সেখানে। ৩১ ডিসেম্বরের পর যারা চীন থেকে তাইওয়ানে গেছে তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানুয়ারিতে তাইওয়ান চিকিত্সা সরঞ্জাামাদি উত্পাদন বাড়িয়েছে। দ্বীপ দেশটি অবশ্য ফেস মাস্কসহ কোনো সরঞ্জামাদিই এখনো পর্যন্ত রফতানি শুরু করেনি। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় বৃহত্ প্রতিবেশীটির কাছ থেকে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়েছে তাইওয়ান। ভুয়া তথ্য ছড়ানো, সামরিক হুমকি, গুরুত্বপূর্ণ চিকিত্সা সহযোগিতায় গড়িমসির মতো সব ধরনের কৌশলই চীন সেবার তাইওয়ানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেছিল। এ থেকে তাইওয়ান যে শিক্ষা পায় তা হলো নিজের আত্মরক্ষার জন্য নিজের সর্বোচ্চ উদ্যোগ করতে হবে।
চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার প্রাথমিক বিস্তারের হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দেশটি মহামারির বিস্তার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং মোটামুটি সফল হয়। ৫ কোটি ১০ লাখ জন অধ্যুষিত দেশটির কর্তৃপক্ষ ভাইরাস শনাক্তকরণের ওপর বিশেষ জোর দেয়। করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ যেমন লকডাউন বেছে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সে পথে যায়নি। উন্নত ও ধনী দেশগুলো লকডাউনের ধকল সামলাতে পারলেও গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর এর ধাক্কা সামলানো সহজ নয়। বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষকে অনাহারে রেখে এটি করতে হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এটি বড়ো সমস্যা না হলেও তারা সেটি করেনি। যুক্তরাজ্যের এডিনবরা ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল পাবলিক হেলথ প্রফেসর দেবী শ্রীধর বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ২৩ মার্চ থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার লোকের ডায়াগনোসিস শুরু করে। সন্দেহভাজনদের হোম আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়।
