সচেতনতা ও ত্রাণ বিতরণে এগিয়ে এসেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:০৩

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দুই দিনের বেতন দিচ্ছেন শিক্ষকরা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যখন দেশের জনজীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতি নেমে এসেছে তখন এগিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদের কেউ অসহায় ও দুস্থদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে ত্রাণ, আবার কেউ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যাচ্ছেন সাধারণ জনগণের দ্বারে। দেশের সংকটকালীন সময়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। চলমান সংকটেও ভূমিকা রাখছেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিপদগ্রস্ত মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবান ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন তারা। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিং করা, লিফলেট বিতরণও করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও রাখছেন ভূমিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দুই দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত। প্রতিদিন ৫০০ জনকে খাওয়া দেন তিনি। এছাড়া শতাধিক লোককে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দিয়ে সহায়তা করছেন। সৈকত বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে শ্রমজীবী, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আরো বেশি দুর্ভোগে পড়ে যাচ্ছে। দিন দিন এ দুর্ভোগ আরো বাড়তে থাকবে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ। প্রতিদিন ২০০ দরিদ্রের খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদার ও সদস্য নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম সবুজ। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পূরণ করতে হবে একটি গুগল ফর্ম। গুগলে দেওয়া তথ্যানুযায়ী সহায়তা পাঠাবেন এ চার জন। সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিও উদ্যোগটি নিয়েছেন। শুরু থেকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবান ও লিফলেট বিতরণসহ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একই উদ্যোগ নিয়েছেন ছাত্রদলও। ছাত্র অধিকার পরিষদও ৫০ জেলায় বিতরণ করেছে তাদের ত্রাণ। ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন বিতরণ করেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবান ও লিফলেট।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, দুর্যোগের আভাস পেয়েই আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। যেখানে যেভাবে প্রয়োজন সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। কোথাও হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবান দিয়েছি সাধারণ জনগণকে। আবার পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে কোথাও ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়েছি। শিক্ষার্থীরা কাজ করছেন স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়েও।