Taurus
[ ২১ এপ্রিল - ২১ মে ]
শাসক গ্রহ :শুক্র
শুভ সংখ্যা :৬
বৈশিষ্ট্য :মৃত্তিকা
রং :আকাশি, নেভি ব্লু, লাল, কমলা ও সাদা
শুভরত্ন :হীরা, পোখরাজ ও পান্না
ধাতু :তামা, ব্রোঞ্জ
শুভ দিন :শুক্রবার
সঙ্গী/সঙ্গিনী :মকর, কন্যা, কর্কট
জে নে নি ন আ প নি কে ম ন বৃ ষ
এই রাশির জাতকদের চোখের দৃষ্টি প্রশান্ত, নির্মল এবং স্থির হয়। বৃষরা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়। খুব অল্প কিছু বৃষই দুশ্চিন্তা করে আর বসে বসে আঙুলের নখ কাটে তার চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে যখন অবস্থার মিল থাকে না তখন সে হয়তো ঠোঁটটা উল্টিয়ে চিন্তা করবে কিন্তু সে মোটেও অল্পতেই বিচলিত আর মানসিকভাবে দুর্বল গোছের নয়।
একজন গড়পরতা বৃষ বেশ স্বাস্থ্যবান আর শক্ত শারীরিক কাঠামোর অধিকারী। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়তে হলে যথেষ্ট কারণ থাকতে হবে। কিন্তু একবার বৃষ যদি বিছানায় পড়ে তো সেরে উঠতেও তার প্রচুর সময় লাগে। ঠাণ্ডা প্রায়শই তার গলা ফুলবার কারণ হয়ে দাঁড়ায় আর খাবারের প্রতি তার অতি আগ্রহ আর ভালোবাসা ওজনটাও বাড়িয়ে দেয়। খাবারের প্রতি তীব্র আগ্রহের ব্যাপারে বৃষকে গিয়ে পেটুক বলে আখ্যা দেওয়ার কোনো মানে নেই। বৃষ মনে করে যে সে মোটেও জেদি নয়, সে হলো ধৈর্যশীল। বৃষ জাতক এবং জাতিকারা তাদের অবস্থান এবং মতামতের ক্ষেত্রে আঠার মতো লেগে থাকে। বৃষরা পরিণত চিন্তাবুদ্ধি ও ধৈর্যশীলতার চমত্কার স্বাক্ষরও রাখতে সক্ষম। হিংসা বৃষের সবচেয়ে বড় দোষ। এরা নিজেরা সৃষ্টি করতে পারে, নিজেরা ভাঙতে পারে, নিজেরা বিশ্লেষণ করতে পারে। তাই তারা মেনে নিতে চায় না অন্যরাও বড় কিছু করুক। তারা চায় সবাই তাদের উপর নির্ভরশীল হোক। একগুঁয়েমি মনোভাব ষাঁড়ের একটা বড় বৈশিষ্ট্য, বৃষেরও। নিজের সাফল্যগুলো তাকে ভীষণভাবে অহংকারী করে তোলে এবং সে চায় সেটার উন্নয়ন যেন কেবল তার হাতে হয়। অনেক বৃষই বছরের পর বছর আবেগী এবং শারীরিক কোনো কষ্টকে নীরবে এবং অভিযোগহীনভাবে বহন করতে পারে। ঝামেলা আর কষ্ট যত বাড়তে থাকে একজন বৃষ ততই যেন তার মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বৃষদের রশিকতা উঁচু মাপের।
বৃষরা সময়ের মতোই ধৈর্যশীল আর বনানীর মতোই গভীর এবং নির্ভর করার মতো শক্তিমান যে শক্তি দিয়ে সে পর্বতও সরিয়ে দিতে পারে কিন্তু সে জেদি। বৃষের কাছ থেকে তার অর্থ-সম্পদ খুব কমই আলাদা হতে দেখা যায়।
বৈশিষ্ট্য
প্রতীক :নির্মাতা বা উত্পাদক
মৃন্ময় বৈশিষ্ট্য :সদয় অধ্যবসায়ী, উদ্যমী দৃঢ়,
রীতিপরায়ণ সংগীত অনুরাগী
ব্যক্তিত্ব :অধ্যবসায়ী আত্মকেন্দ্রিক, শৈল্পিক, সদয় বাস্তববাদী, বৈষয়িক, সতর্ক বিশ্বাসী, ধৈর্যশীল, একরোখা।
বিখ্যাত ব্যক্তি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ওমর খৈয়াম, মানিক বন্দোপাধ্যায়, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বার্ট্রান্ড রাসেল, সত্যজিত্ রায়, ড. হুমায়ুন আজাদ, লেলিন, কার্ল মার্কস, জাহানারা ইমাম, ড. কুদরত-ই-খোদা, কলিম শরাফী, ফজলে হাসান আবেদ, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নিয়াজ মোর্শেদ।
কেমন যাবে ২০১৯ বিশেষজ্ঞের চোখে
মৃত্তিকা রাশি বৃষের জাতক-জাতিকার জন্য বছরের শুরুটা ভালো গেলেও এপ্রিল থেকে শরীর-স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। যানবাহনে গমনাগমনে সতর্কতা অবলম্বন করুন। কোনো ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন। দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো যাবে। অবিবাহিতদের বিবাহের ব্যাপারে সময় সারা বছরই অনুকূল থাকবে। আর্থিক ব্যাপারে বছরটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। বিনিয়োগে এ বছর কোনো ঝুঁকি না নিলেই ভালো করবেন। পিতৃস্বাস্থ্য বছরের প্রথমার্ধে খুব একটা ভালো যাবে না। মায়ের শরীর-স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে। যৌথ ও অংশীদারী ব্যবসায় সুফল পাবেন। রোমান্টিক বিষয়াদির ব্যাপারে বছরের প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। তবে এপ্রিলের পর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূল থাকবে। কর্মস্থলে এ বছর প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝির সম্মুখীন হতে পারেন। সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। শিক্ষার্থীদের জন্য সময় অনুকূল থাকবে। তবে বছরের প্রথম তিনমাস মাঝেমধ্যেই মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হতে পারে। দ্বাদশে ইউরেনাসের অবস্থানজনিত কারণে অপ্রত্যাশিত ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা সারাবছরই থাকবে। অষ্টমে শনি, বৃহস্পতি, প্লুটো এবং কেতুর উপস্থিতির ফলে শরীর-স্বাস্থ্য সম্পর্কে কমবেশি সারাবছরই উদ্বিগ্ন থাকতে হবে। কোনো অসুস্থতাকেই অবহেলা করা যাবে না। পারিবারিক কোনো ব্যাপারে পিতা বা পিতৃস্থানীয় কারও সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। এ বছর কারও কারও তীর্থযাত্রার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হতে পারে। অন্যান্য দিক ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।
