করোনা ভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে ‘জনমতকে কিছুটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে’ বলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গরিব মানুষের জন্য অনুদান নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা দিয়ে চলমান সংকট নিরসন হবে না। আসলে এটা পুরোটা দিয়েছে ঋণ। এখানে অনুদান বলতে কিছুই নেই। গতকাল রবিবার বিকালে উত্তরায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, এটাকে আমরা তখনই পজিটিভ বলতে পারতাম, যদি দেখতাম যে আসল সমস্যা সমাধান করার জন্য তিনি উদ্যোগী হয়েছেন। অর্থাত্, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষকদের জন্য কোনো কথা প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজে নেই। মির্জা ফখরুল বলেন, আসলে এটা পুরোটা তো দিয়েছে ঋণ। আমরা বলেছি যে সাধারণ মানুষকে ১৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান দিতে হবে। কিন্তু সেই বিষয়ে এখানে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। সরকারের মধ্যে সামগ্রিকভাবে সমন্বয়নহীনতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব।
প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজ ঘোষণায় ‘দিন আনে দিন খায়’ তাদের নিয়ে কোনো কথা আমরা দেখতে পাইনি। তিনি বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা বলয়টা আরো বড়ো করা হবে’। তবে কত বড়ো হবে বা তার জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হবে, এই নিয়ে কিছু বলা হয়নি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজকে যে ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং আগে যে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন, তার বেশির ভাগই শিল্প, গার্মেন্ট শিল্পের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ। এটা কিন্তু ঋণের প্রণোদনা। এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য খাত প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উপেক্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাদের প্রয়োজনীয় সামর্থ্য বৃদ্ধি করা, যেমন ভেন্টিলেটর, পরীক্ষা করার কিট, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো কথা বলেননি। তিনি স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কোনো অর্থও বরাদ্দ করেননি। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় বিমা করার কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ একমাত্র উত্পাদন খাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে যাবে বলে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে। বড়ো শিল্প খাতে যে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে, তার মধ্যে সুদের হার সাড়ে ৪ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে—বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই খাত থেকে যে হারে টাকা লুটপাট হয়েছে এবং বিদেশে পাচার হয়েছে, তার কিন্তু কোনো জবাবদিহি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতার জন্য যে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে, তা কি সরাসরি শ্রমিকদের কাছে যাবে, নাকি মালিকদের কাছে যাবে— তা সুস্পষ্ট নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে এখন মূল সমস্যা হচ্ছে যারা দিন আনে দিন খায়, তারা। তার কথা শুনলে মনে হবে দেশে কোনো ভাইরাসের বালাই নেই।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, পোশাক কারখানাগুলো যখন ছুটি দিল তখন দুই দিন পরিবহন খোলা ছিল। তখন গণহারে সবাই ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে। ভাইরাসের সব উপকরণ নিয়ে তারা গ্রামে গেছে। এখন আপনারা দেখছেন ঢাকার বাইরে মৃত ও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে; কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, সেখানে পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে অনেকে মারা গেছেন।
দেশ পুরোপুরি লকডাউন করুন : বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে এখন পুরোপুরি লকডাউন করা উচিত। যে ভয়াবহতা আসছে সরকার তা এখনো অনুধাবন করতে পারছে না। ইতিমধ্যে শনিবারের চেয়ে গতকালের আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এটা বাড়তেই থাকবে।
