করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকারি ছুটির অংশ হিসেবে দেশের প্রায় সবধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তার মধ্যেও বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের কার্যক্রম চললেও দেওয়া হচ্ছে না শ্রমিকদের বেতন। এর প্রতিবাদে গতকাল রবিবার মিলের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শত শত শ্রমিক। এ সময় তারা কোম্পানির নিয়ম পালটে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের পাশাপাশি দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবি করেন।
জানা গেছে, গতকাল সকালে নগরীর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের দপদপিয়া শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুসংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরে ৮ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাসে শ্রমিকরা আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, বরিশালের নামকরা খান সন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলে হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। কিন্তু তাদের কাউকেই নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এক মাসের বেতন দেওয়া হয় অপর মাসের শেষে। শ্রমিকরা বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সকলের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। এজন্য দেশ লকডাউনে রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও মালিক পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা নিয়মিত কাজ করে আসছি। অথচ চলমান সংকটের মধ্যেও আমাদের দুই মাসের বেতন আটকে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম পিপিএম এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সমঝোতা বৈঠকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কাজে ফিরে যান।
সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের প্রকল্প কর্মকর্তা সালাউদ্দিন চৌধুরী খোকন সাংবাদিকদের জানান, মাসের ২০-২৫ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়। শেষ দিকে বেতন দেওয়ার বিষয়টি কোম্পানির একটি পলিসি। এ বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে কোম্পানির আর্থিক সংকট রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মূলত গত মাসের বেতন চলতি মাসের ২৫ এপ্রিল দেওয়ার কথা। কিন্তু শ্রমিকরা এর বিরোধিতা করে মার্চ মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ের আগেই দাবি করেছে। এজন্যই তারা মিলের গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। আমরা তাদের কথা মেনে নিয়েছি। তাই শ্রমিকরা পুনরায় কাজে যোগদান করেছে।
