দুর্ভোগ সঙ্গী করে ফের বাড়ি ফিরছেন শ্রমিকরা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৭

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উপেক্ষা করে শনিবার রাজধানীমুখী হয়েছিল মানুষ। কিন্তু গার্মেন্টস বন্ধের ঘোষণা হলে ফের রাজধানী থেকে ঘরমুখী হচ্ছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষত পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাজধানী থেকে বিভিন্ন যানে ঘরে ফিরতে শুরু করে। গতকাল রবিবার সকাল থেকে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়াগামী ফেরিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি চলেছে। সকাল থেকেই ট্রাক ও পিকআপ, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সযোগে গাদাগাদি করে পোশাক শ্রমিকদের এ রুট দিয়ে ফিরতে দেখা যায়।     দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা, পিকআপ, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঘাট এলাকায়  পৌঁছায়। পরবর্তীতে তারা পণ্যবাহী ট্রাক ও প্রাইভেট কারের সঙ্গে গাদাগাদি করে ফেরি পার হচ্ছে।

কয়েকজন শ্রমিক বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে পোশাক কারখানা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। রবিবার অফিস খোলা থাকায় শনিবার অনেক কষ্ট করে ঢাকা গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাত্ ছুটি হওয়াতে ফের বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

তারা আরো জানান, বাড়ি গেলে তারা আত্মীয়দের সহযোগিতায় খাবার ব্যবস্থা করতে পারবে। কিন্তু ঢাকা থাকলে সেটা সম্ভব নয়। কয়েক জন শ্রমিককে করোনায় ঘরে থাকার কথা বললে তারা জানান, না খেয়ে মরার চেয়ে করোনায় মরা ভালো।

বিআইডব্লিওটিসির ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান জানান, লাশবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া আমরা ফেরি পারাপার বন্ধ রেখেছি। দুপুরে এ সুযোগে কিছু যাত্রী উঠে পড়েছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, আমরা মানবিক কারণে রাজধানী থেকে বাড়িমুখী মানুষকে ছাড় দিচ্ছি। এরা অনেক কষ্ট করে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত এসেছে। এদের ফিরিয়ে দিলে কোনো দিকেই যেতে পারবে না।

এদিকে, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, ভাইরাস সংক্রমণ রোধে  দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিসি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরির মধ্যে পাঁচটি ফেরি চালু রেখে সীমিত আকারে সচল রাখা হয়। কিন্তু ফেরি সার্ভিস চালু থাকার সুযোগে বিভিন্ন সময় জরুরি যানবাহনের চেয়ে সাধারণ মানুষ গাদাগাদি করে নদী পারাপার হয়ে থাকে। রাজধানীতে যাওয়া পোশাক শ্রমিকরা রবিবার ফিরতে শুরু করে।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে যে যেমন পরিবহন পাচ্ছেন তাতে চড়েই বা?ড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হলেও মহাসড়?কে ঘটছে বিপত্তি। সাভার থেকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশ করোনার ঝুঁকি রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিচ্ছে। এতে মহাসড়কেই নেমে যেতে বাধ্য হচ্ছে ঢাকাফেরত পোশাককর্মীরা।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশফাঁড়ির এটিএসআই মকবুল হোসেন চাঁদা ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই পণ্যবাহী পরিবহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় তারা কিছুটা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সাভার হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস রোধে তাদের ট্রাক থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে বৃহত্তর স্বার্থে। এখানে কিছু করার নেই।