করোনা বিপর্যয় ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জে কারফিউ চান আইভী-শামীম ওসমান

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:১৮

নারায়ণগঞ্জে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রবল আকার ধারণ করায় জরুরি বৈঠক করেছে প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ জেলাকে “রেড জোন” হিসেবে ঘোষণা করেছে আইইসিডিআর। এরই মধ্যে জেলায় দুই জনের মৃত্যু ও আরো ছয় জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় এই রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে পুরো জেলার মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করতে যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের পক্ষ থেকে। প্রয়োজনে কারফিউ জারি করে হলেও মানুষকে এই মহামারি থেকে বাঁচতে ঘরে থাকতে বাধ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় ভয়াবহ বিপর্যয় আসন্ন। নাসিক ও শামীম ওসমানের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, বারবার সেনাবাহিনী, র্যাব-পুলিশসহ  প্রশাসনের লোকজন সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েও ব্যর্থ হওয়ায় কঠোর সিদ্ধান্তে যাওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন।

জানা গেছে, গত ৭২ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে ‘করোনা ভাইরাস’ আক্রান্ত  এলাকা হিসেবে নগরীর আমলাপাড়া, উকিলপাড়া, নন্দীপাড়া, গলাচিপা, চাষাঢ়া বেলী টাওয়ার, পুরান পালপাড়া, পাইকপাড়া, বাবুরাইল, ফতুল্লার কাশিপুর, লামাপাড়া, বন্দর (সমগ্র), সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী ও জালকুড়ি এলাকায় কয়েক হাজার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে এরই মধ্যে। রবিবার দুপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন,  করোনার আক্রান্ত আগের ছয় জন নিয়ে মোট নারায়ণগঞ্জ জেলায় সরকারি হিসেবে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১১ জন। এদের মধ্যে বন্দরে নাসিক ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী এবং সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুর বাংলাবাজার এলাকায় এক পুরুষ মারা গেছেন। সর্বশেষ করোনায় এক অর্থোপেডিক্স ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের বেইলী টাওয়ারের বাসিন্দা। আক্রান্ত ছয় জনই বর্তমানে আইইডিসিআরের পর্যবেক্ষণে ঢাকায় চিকিত্সাধীন আছেন

এদিকে, এমপি শামীম ওসমান জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগই একে রোধ করতে হবে। তাই আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব যত দ্রুত সম্ভব পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ করতে। যেনতেন প্রকারের লকডাউন নয়,  কাউকে যেন ঘর থেকে বের হতে না দেওয়া হয়। আমাদের আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিতরা সক্রিয় আছেন। যে কেউ ফোন করলে আমরা তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিব। বার বার প্রশাসন অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাইকিং করার পরেও দেখতে পাচ্ছি লোকে বিনা দরকারেই বের হচ্ছে। অনেক এলাকাতেও লোকজন জড়ো হয়ে গালগল্পও করছে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল আমিন প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘনবসতিপূর্ণ এই নগরীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যাধিক। মানুষের জীবন রক্ষার্থে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পূর্বক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী জরুরি ভিত্তিতে সিটি এলাকা লকডাউন/কারফিউ জারি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়।