কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য চারতলা
অফিস ছাড়লেন শাহরুখ খান
এমনি এমনি তাকে ‘বলিউড বাদশাহ’ বলা হয় না। তার সবকিছুতেই রয়েছে সত্যিকারের বাদশাহি মেজাজ। বলা হচ্ছে সুপারস্টার শাহরুখ খানের কথা। করোনা মোকাবিলায় একগুচ্ছ অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন গত শুক্রবারই। এবার নিজের ব্যক্তিগত অফিসকে জনসাধারণের জন্য কোয়ারেন্টিন সেন্টার ঘোষণা করে আবারো মানবিকতার নজির গড়লেন এ তারকা। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গ্রেটার মুম্বাই পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি টুইটে শাহরুখ এবং তার স্ত্রীকে এই চরম দুঃসময়ে মানুষের পাশে এইভাবে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়, ‘শাহরুখ এবং গৌরী খান তাদের ব্যক্তিগত চারতলা অফিসটি শিশু, মহিলা এবং বয়স্কদের কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে দান করার মতো যে পদক্ষেপ নিলেন তা নিঃসন্দেহে সুচিন্তার প্রতিফলন।’
অক্ষয়-আয়ুষ্মান সহ অনেক বলিতারকাই করোনা মোকাবিলায় অর্থদান করলেও শাহরুখ কেন কানাকড়িও খরচ করছেন না, তা নিয়ে কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মন্তব্য উড়ে আসছিল। যাবতীয় সমালোচনা, ট্রলিংকে থামিয়ে দিয়ে গত শুক্রবার শাহরুখ সোশাল মিডিয়ায় বিস্তারিতভাবে জানান, কোন কোন জায়গায় কী কী দান করেছে তার প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিস এন্টারটেনমেন্ট, তার আইপিএল দল নাইট রাইডার্স এবং এনজিও মীর ফাউন্ডেশন। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে কলকাতা নাইট রাইডার্স, আইপিএল ফ্যাঞ্চাইজির মালিক গৌরী খান আর শাহরুখ খান সহ জুহি চাওলা, জয়ও অর্থ দান করবেন।
করোনা মোকাবিলায় খাদ্য তহবিল গঠন করলেন লিওনার্দো
করোনা ভাইরাসের আক্রমণে আমেরিকা এখন মৃত্যুপুরী। দেশটিতে প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুর তালিকাও। এমন অবস্থায় দিশেহারা প্রশাসন। পরিস্থিতি এখন এতটাই ভয়াবহ যে আমেরিকার মতো উন্নত দেশে অসংখ্য মানুষের খাবার জোগাড় করাই দায় হয়ে পড়েছে। তাদের সাহায্যার্থে এবার এগিয়ে এলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো দি ক্যাপ্রিও।
মার্কিন মুলুকে একটি খাদ্য তহবিল চালু করেছেন তিনি। জানা গেছে, ফিলানথ্রপিস্ট লরেন পাওয়েল জোবসের সঙ্গে যৌথভাবে দরিদ্র আমেরিকানদের জন্য এই ফুড ফান্ড তৈরি করেছেন লিও। এখনো পর্যন্ত এই তহবিলে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা গেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বল্প আয়ের পরিবার, বয়স্ক ও এই মহামারির পরিস্থিতিতে যাদের চাকরি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের সাহায্য করা হবে। এছাড়া যে সমস্ত শিশুরা খাদ্যের জন্য স্কুলের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরও সহায়তা করা হবে।
‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন’ ও ‘ফিডিং আমেরিকা’ নামে দুই ত্রাণ সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে লিওনার্দোর এই ফুড ফান্ড সংগঠন। অ্যাপল এবং ফোর্ড ফাউন্ডেশনও এই উদ্যোগে লিওনার্দোদের সাহায্য করছে বলে খবর। লিওনার্দো এর জন্য ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন এবং ফিডিং আমেরিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
লকডাউনে রণবীর-দীপিকার ২০ ঘণ্টা ঘুম
নিয়ম মেনে লকডাউনে বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছেন রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন দম্পতি। দক্ষিণ মুম্বাইতে নিজেদের বাড়িতে রয়েছেন তারা। বাসায় থেকে ইনস্টাগ্রামে টুকটাক ছবি পোস্ট করে জানাচ্ছেন, কীভাবে তারা এ সময়টা উপভোগ করছেন। সর্বশেষ দীপিকা রণবীরের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে রণবীর ঘুমিয়ে আছেন। ঘুমন্ত স্বামীর কপালে দীপিকা সেঁটে দিয়েছেন স্বামী ট্যাগ। এর আগে দীপিকা বলেছিলেন, রণবীরের সঙ্গে ঘরে কাটানো সময়গুলো অনেক আনন্দের। সে দিনে ২০ ঘণ্টার মতো ঘুমায়। এ সময়টা আমি যা ইচ্ছে তাই করি। আর জেগে থাকা ঘণ্টাচারেক সময় আমরা সিনেমা দেখা, খাওয়া-দাওয়া ও ব্যায়াম করি। স্বামী আমার ভীষণ মজার মানুষ। কোনো চাহিদা নেই, ঝামেলা নেই, ভীষণ সহজ। ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপ জিতেছিল। প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের কাহিনি তুলে ধরা হচ্ছে কবির খান পরিচালিত সিনেমা ‘৮৩’-তে। সিনেমাটিতে কপিল দেবের স্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে বলিউড অভিনেত্রী ও রণবীরের স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে। ১০ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে মুক্তির তারিখ পেছানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ‘৮৩’ সিনেমার মুক্তির পরবর্তী তারিখ জানানো হবে।
করোনা থেকে মুক্তির পর ৮ কোটি টাকা দান করছেন গায়িকা
পিঙ্ক
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে টানা ১৫ দিন আইসোলেশনে থেকে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছেন মার্কিন পপ গায়িকা পিঙ্ক। নতুন জীবন ফিরে পেয়ে সাড়ে ৮ কোটি টাকা দান করবেন বলে কথা দিয়েছেন এই গায়িকা। শুধু পিঙ্কের নয়, তার তিন বছরের ছেলের মধ্যেও দেখা দিয়েছিল করোনার নানা লক্ষণ। এখন অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত তারা। পিঙ্ক জনিয়েছেন, তার দানের সাড়ে ৮ কোটি টাকার অর্ধেক দেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের জরুরি তহবিলে ও বাকি অর্ধেক দেওয়া হচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়রের জরুরি সংকট তহবিলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিঙ্ক লিখেছেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমার তিন বছরের ছেলে জেমসন ও আমার মধ্যে কভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা দেয়। সৌভাগ্যক্রমে, প্রাথমিক পর্যায়েই আমাদের চিকিত্সক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পেরেছিলেন।
এরপর আমরা একটি বাড়িতে চিকিত্সকদের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন কাটাতে শুরু করি। চিকিত্সক জানিয়েছেন, এখন আমরা করোনামুক্ত।’
পিঙ্ক আরও বলেন, ‘মানুষজনের জানা উচিত এটা তরুণ-বৃদ্ধ, স্বাস্থ্যকর-অস্বাস্থ্যকর, ধনী-দরিদ্রসহ সবাইকে আক্রমণ করতে পারে। আমাদের শিশু, পরিবার, বন্ধু—সবার জন্য করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা বিনামূল্যে করার সুযোগ করে দিতে হবে।’
